সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা পুরোপুরি রহস্যজনক। ঘটনার সময় গাড়ির বহরের সাথে থাকা মিডিয়ার টিম, পুলিশ ও সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা সদস্যরাও গাড়ি ভাঙচুরের কোনো চিত্র দেখতে পাননি। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও নেই, যা পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন ও গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে গাড়ির বহরে থাকা পুলিশ বলছে, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং এনসিপির নেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা ছিল। উল্লেখ্য, শুক্রবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে 'জুলাই পদযাত্রা' ও সমাবেশ করে এনসিপি। এতে অংশ নেন দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সংসদ সদস্য ও নারী শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু।

রাতে জৈন্তাপুর থেকে ফেরার পথে চলন্ত গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে দেওয়া হয় বলে সিলেট সার্কিট হাউসে এসে অভিযোগ করেন দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। এতে তিনিসহ দুজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সাথে এই হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাফফারা দিতে হবে বলেও তিনি হুমকি দেন।

তিনি আরও দাবি করেন, হরিপুর বাজারে পথসভা শেষ করে গাড়িতে উঠে তিন মিনিট চলার পরই ডান দিক থেকে ইট দিয়ে ঢিল ছোড়া হয়। এতে তাঁর গাড়ির ডান পাশের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং ডান পাশে থাকা এক কর্মী ও তিনি আহত হন। এ ঘটনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়ী করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের দেওয়া উস্কানিতেই তাঁর উপর হামলা করেছে বিএনপির লোকজন।

তবে হামলার এই অভিযোগ সম্পর্কে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, হামলার অভিযোগ সঠিক নয়, এরকম কিছুই ঘটেনি। সমাবেশ শেষে তাঁদের নিরাপদে সিলেট পৌঁছে দেওয়া হয় এবং পুরো রাস্তায় তাঁদের সাথে পুলিশ ছিল। সাথে মিডিয়া টিমের সদস্যরাও ছিলেন, কিন্তু কেউ হামলার ঘটনা ঘটেছে তা দেখেনি। এমনকি যেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে গিয়ে তদন্ত করে এবং স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অতএব পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক বক্তব্য।

এদিকে শনিবার সকালে সিলেট থেকে ঢাকায় পাঠানো একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, জৈন্তাপুর থানাধীন হরিপুর বাজারস্থ প্রোগ্রাম শেষে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা পুলিশি এস্কর্টের মাধ্যমে সিলেট সার্কিট হাউসে আসার পথে কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক-নাসি রুদ্দিন পাটোয়ারীকে বহনকৃত প্রাইভেটকারে কে বা কাহারা ঢিল ছুড়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে তাঁকে আহত করে মর্মে সে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে। প্রকৃতপক্ষে সমাবেশ শেষে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে বহনকৃত প্রাইভেটকারের ঠিক পেছনে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ এস্কর্ট পার্টির সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, যাত্রাপথে এ ধরনের কোনো ঘটনা এস্কর্টপার্টি প্রত্যক্ষ করেনি এবং গাড়ি বহরে থাকা বিভিন্ন মিডিয়ার গাড়ি ও মোটরসাইকেলে থাকা সংবাদকর্মীরাও এ ধরনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গাড়ি বহরটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে অগ্রসর হচ্ছিল এবং পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে গাড়িবহর এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া তারা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো সংবাদ পুলিশকে অবহিত করেনি, এমতাবস্থায় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর গাড়িতে হামলার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ এবং রহস্যজনক মর্মে প্রতীয়মান হয়। বর্তমানে থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সিলেট জেলা পুলিশ কর্তৃক পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধিসহ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews