বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মরণব্যাধি ক্যান্সারের প্রকোপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ ‘গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন ক্যান্সার ২০২৬’ অনুযায়ী, জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর নতুন করে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৫ মিলিয়নে (৩ কোটি ৫০ লাখ) গিয়ে ঠেকতে পারে। যা বর্তমান আক্রান্তের হারের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ২০.৬ মিলিয়ন (২ কোটি ৬ লাখ) মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন প্রায় ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) মানুষ। হৃদরোগের পর ক্যান্সারই এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এর পরিচালক ড. এলিসাবেত উইডারপাস জানান, মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়া এর প্রধান কারণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। তবে এর বাইরেও আধুনিক অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় এই ঝুঁকিকে আরও উস্কে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তামাক ও ধূমপানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা (ওজন বৃদ্ধি), শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ু দূষণকে ক্যান্সার বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু সংক্রামক রোগ, যেমন হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)-ও এর জন্য দায়ী।

চিকিৎসায় চরম বৈষম্য:
ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার চরম বৈষম্যের কথা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ক্যান্সার একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত রোগ যা আমাদের প্রায় প্রত্যেকের জীবনকেই কোনো না কোনোভাবে স্পর্শ করে। কিন্তু একজন মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে থাকবেন নাকি মারা যাবেন, তা কখনোই সে কোন দেশে জন্মেছে বা তার আয় কত, তার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।”

ধনী দেশগুলোতে উন্নত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা ও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ থাকায় ক্যান্সার আক্রান্তদের বেঁচে থাকার হার বেশি। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় অতিরিক্ত খরচের কারণে অধিকাংশ মানুষ শেষ ধাপে গিয়ে রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন, যখন চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

বাঁচার উপায় কেবল সচেতনতা ও প্রতিরোধ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে বেশিরভাগ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, এইচপিভি ও হেপাটাইটিস বি-এর টিকাদান কর্মসূচি, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং বায়ু দূষণ কমানোর মাধ্যমে এই মরণব্যাধির ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় ব্রেস্ট, জরায়ুমুখ বা কোলন ক্যান্সার ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews