উচ্চ আদালতে মামলাজট নিরসনে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিতে পৃথক বেঞ্চ গঠন চেয়েছেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কিছু আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণাও দিয়েছেন। গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নিজের কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর দোয়া-মোনাজাতের পর নিজের চেয়ারে বসেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল। এ সময় নতুন অ্যাটর্নি জেনারেলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ সিনিয়র আইনজীবীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভূঞা ও মোহাম্মদ অনীক আর হক প্রমুখ । পরে সুপ্রিম কোর্ট বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, আমরা এখানে কোনো অবৈধ কাজ করছি না, রাষ্ট্রকে ডিফেন্ড করছি। আগে আমাদের অনেক আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পিক অ্যান্ড চুজের (পছন্দমতো বেছে বেছে) অভিযোগ আছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনেরও অভিযোগ আছে। আমরা কিছু ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছি। আমার নিয়োগের পর থেকেই আমি এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি। তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করে দিচ্ছি। মামলাজটের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, উচ্চ আদালতে মামলাজট নিরসনে ভূমিকা রাখতে চাই। এ ক্ষেত্রে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিতে হাই কোর্টে পৃথক একটি বেঞ্চ গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি যদি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমার মতামত চান, আমি কিছু মতামত দেব। মামলাজট হ্রাস করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখব। গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।