জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি ফরোয়ার্ড লুকিং বাংলাদেশ গড়তে চাই। পেছনের বিষয় নিয়ে আর বিভাজনের রাজনীতি করতে চাই না। সবাই মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
গতকাল দিনব্যাপী রাজধানীতে নিজ নির্বাচনি এলাকা কাফরুল, মনিপুরীপাড়াসহ মিরপুর-১৫ এ গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জামায়াত আমির মিরপুরসহ ঢাকা মহানগরীকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবেন। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন- এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন, সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানো-এই রাজনীতি আমরা বন্ধ করব। ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে চাঁদার বোঝা চাপিয়ে যারা জনগণের পকেট কাটে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা হবে। কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে। জামায়াত আমির বলেন, আমরা উচ্ছেদে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি নিরাপদ ও মানবিক বস্তি উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পিত উদ্যোগে। আরেকটি বড় সমস্যা- রাস্তায় ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে চলা দায়। আমরা এসবের সমাধান করব। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যানজট আজ আমাদের নিত্যদিনের সমস্যা। বাস আছে, কিন্তু শৃঙ্খলা নেই। ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামছে। এটি পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফল। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, বাস রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। ঢাকায় মেট্রোরেলের পরিসর আরও বাড়ানো হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। মনে রাখবেন, যাদের চাঁদা তোলার মানসিকতা রয়েছে, তারা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চাইবে না। জামায়াতে ইসলামীকে আল্লাহ এই অভিশাপ থেকে মুক্ত রেখেছেন। স্থানীয় রাস্তাগুলোর পরিকল্পিত ও টেকসই সংস্কার করা হবে। জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মিরপুরকে ঢাকার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা হবে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
গতকাল বিকালে রাজধানীর মনিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের মহিলা সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সময় জামায়াত আমির বলেন, যদি আর কেউ মায়েদের গায়ে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না; আমরা গর্জে উঠব। তিনি আরও বলেন, মায়েরা রাষ্ট্রের বুনিয়াদ। তাদের জন্য পুরুষের সমান ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা অনেক ক্ষেত্রে অবিচার। আমরা এটি ৫ ঘণ্টা করতে চাই যাতে তারা সন্তানদের সময় দিতে পারেন এবং চাকরিও না ছাড়তে হয়। তবে কেউ স্বেচ্ছায় ৮ ঘণ্টা করতে চাইলে তাকে স্বাগত জানানো হবে।