ফাল্গুনের বিষণ্ন সকালে ল্যাপটপের সামনে বসলে মনের ভেতর কেবল একটি দৃশ্য বারবার ভেসে উঠছে। তেহরানের ধোঁয়াশাচ্ছন্ন রক্তাভ আকাশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবারের রাত পৃথিবীর ইতিহাসে কেবল সাধারণ তারিখ হয়ে থাকবে না। এ রাত হয়ে থাকবে এক বিশাল ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। ভয়াবহ বিমান হামলায় তিনি সপরিবারে শাহাদত বরণ করেছেন। সংবাদ প্রথম কানে এলে বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিষণ্ন সুরে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শুরু হলে এবং স্ক্রিনের কোণায় কালো ব্যানার জুরে গেলে স্পষ্ট হয় পারস্যের এক বিশাল মহীরুহের ইহজাগতিক সফর শেষের কথা। এক জনপদের দীর্ঘ পথচলা আজ রক্তাক্ত মোড়ে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৭ বছর তিনি কেবল একটি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন না। ছিলেন আপসহীন আদর্শিক সংগ্রামের জীবন্ত প্রতীক। তার বিদায়ের মুহূর্ত কেবল ইরানের জন্য শোকের নয়। বরং সারা বিশ্বের অধিকারবঞ্চিত মানুষের জন্য এক গভীর ক্ষত। তেহরানের রাজপথে সাধারণ মানুষের হাহাকার কোনো আনুষ্ঠানিক শোক নয়। এ হাহাকার একজন আধ্যাত্মিক অভিভাবককে হারানোর অকৃত্রিম যন্ত্রণা। বৈশ্বিক রাজনীতির জটিল হিসাব-নিকাশ যাই হোক না কেন, একজন প্রবীণ নেতার সপরিবারে বিদায় নেয়া আধুনিক মানবতাকে আবারো কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন করে দিলো। একটি যুগের অবসান ঘটল ঠিকই; কিন্তু পেছনে রেখে গেল একরাশ অনিশ্চয়তা ও অন্ধকার। লেখক হিসেবে আমার কাছে এ মৃত্যু কেবল খবর নয়। এ মৃত্যু পৃথিবীর ভারসাম্য বদলে যাওয়ার এক করুণ আর্তনাদ। দীর্ঘ সময়কাল তিনি যেভাবে পশ্চিমাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তা ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
শনিবারের হামলা ছিল অত্যন্ত ঠাণ্ডামাথার এবং বিধ্বংসী। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর বিমান হামলা পরিচালিত হয়েছে সরাসরি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত খামেনির বাসভবনে। হামলাটি কেবল সামরিক অভিযান নয়, হামলাটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ওপর চরম আঘাত। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে একটি দেশের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তিকে সপরিবারে লক্ষ্যবস্তু করা সভ্য পৃথিবীর জন্য এক ভয়াবহ অশনিসঙ্কেত। হামলায় শুধু খামেনি একা নন, বরং নিহত হয়েছেন তার কন্যা এবং নিরপরাধ নাতনীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। নিষ্পাপ শিশুদের রক্ত যখন ভূরাজনীতির দাবার চালে মিশে যায়, তখন পৃথিবীর বিচারালয়গুলো বড় বেশি নীরব হয়ে পড়ে। এ নীরবতা আমাদের শঙ্কিত করে। পশ্চিমা বিশ্ব নিজেদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আক্রমণকে বৈধতা দেয়ার অপচেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের মনে আজ বড় প্রশ্ন জেগেছে। বিশ্ব কি তবে এখন কেবল গায়ের জোরে চলবে। কূটনৈতিক আলোচনার সব পথ বন্ধ করে দিয়ে যখন আকাশ থেকে মৃত্যু নেমে আসে তখন বুঝতে হবে শান্তির চেয়ে যুদ্ধের নেশাই পরাশক্তিগুলোকে বেশি আচ্ছন্ন করেছে।
ইরানে ইসরাইল-মার্কিনিদের ভয়াবহ হামলা প্রমাণ করল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা এখন দূরপরাহত। কোনো সতর্কবার্তা ছাড়া একটি দেশের হৃৎপিণ্ডে আঘাত হানা মানে সরাসরি যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠা। তেহরানের ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন যে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ইরান নয় বরং পুরো বিশ্বকে গ্রাস করার নামান্তর। সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন যদি বিনা বিচারে পার পেয়ে যায় তবে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র আর নিরাপদ থাকবে না। একুশ শতকের সভ্যতায় দাঁড়িয়ে আমরা যখন এমন বর্বরতা দেখি, তখন সভ্যতার সংজ্ঞাটি বদলে যায়। প্রতিটি বারুদকণা আজ শান্তির বুক চিরে প্রবাহিত হচ্ছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এমন মর্মান্তিক বিদায়ের পর তেহরানের আকাশে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কে ধরবেন এই বিশাল পদের হাল। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন ইরানের অঘোষিত অভিভাবক। তার একটি ইঙ্গিতে দেশটির রাজনীতি ও ধর্মতত্ত্ব পরিচালিত হতো। এ বিশাল ব্যক্তিত্বের প্রস্থান যে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে; তা কাটিয়ে ওঠা মোটেও সহজ হবে না।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ এখন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। তারা কি প্রথাগত কোনো প্রবীণ নেতাকে বেছে নেবেন নাকি পরিস্থিতির প্রয়োজনে তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনবেন। নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখন সারা বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে। ইতোমধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে তার যোগ্য উত্তরাধিকারীদের নিয়ে। তবে সঙ্কট কেবল ব্যক্তি নির্বাচনের নয়। সঙ্কট মূলত বিপ্লবের আদর্শিক ধারা অক্ষুণ্ন রাখার এক জীবন-মরণ লড়াই।
বর্তমানের উত্তাল সময়ে ইরান কি একজন কট্টরপন্থী নেতা সামনে আনবে, নাকি কিছুটা কৌশলগত পথে হাঁটবে; সেটি দেখার বিষয়। নেতৃত্বের পালাবদলের সুযোগে দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা ষড়যন্ত্র ডালপালা মেলতে পারে। একজন অভিভাবককে হারানোর পর যখন একটি জাতি দিশেহারা থাকে, তখন সুযোগসন্ধানীরা আঘাত হানার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র খুঁজে পায়। ইরানের সামনের দিনগুলো কেবল শোকের নয় বরং অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন সংগ্রামের সময়। শূন্যতা দ্রুত পূরণ না হলে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা একটি জাতিকে আরো দুর্বল করে দিতে পারে। বাইরের শত্রু যতটা না ভয়ঙ্কর, তার চেয়ে বেশি আশঙ্কার বিষয় হলো ভেতরের অনৈক্য। পারস্যের এ ক্রান্তিলগ্নে নেতৃত্বের প্রজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে সেটি এখন বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্ত আজ হয়তো ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
শনিবারের ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রজুড়ে এক অস্থির কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ইরানের রেভুল্যুশনারি গার্ডস ইতোমধ্যে কঠিন প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছে। হিজবুল্লাহ কিংবা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা শোকের আগুনে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে। তেহরানের আকাশে এখন কেবল শোকের কালো পতাকা নয়, বরং যুদ্ধের লাল ঝান্ডা উড়ছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে এমন এক খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে, যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। অঞ্চলের প্রতিটি রাষ্ট্র এখন এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সাধারণ মানুষের চোখেমুখে এখন কেবল ধ্বংসের ছায়া। যুদ্ধ মানে কেবল কামানের গর্জন নয়। যুদ্ধের সাথে জড়িয়ে আছে লাখো সাধারণ মানুষের জীবন আর বিশ্ব অর্থনীতির ভাগ্য। যদি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় কিংবা সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তবে জ্বালানি তেলের বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি পণ্যমূল্য আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে। সঙ্ঘাতের রেশ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চরম সঙ্কটে ফেলবে। শক্তির দাপট দেখিয়ে যখন কেউ ক্ষমতার চূড়ায় আঘাত করে, তখন তার প্রতিঘাত যে কতটা বিধ্বংসী হতে পারে তা আমরা অতীতে বহুবার দেখেছি। যুদ্ধের দামামা এখন কেবল তেহরানে নয় বরং পুরো বিশ্বের দরজায় কড়া নাড়ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবন আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আকাশ থেকে নেমে আসা বারুদ যখন জনপদগুলোকে ঝলসে দেয়; তখন বিজয়ীর উল্লাস বড় বেশি অমানবিক শোনায়। বারুদ আর রক্তের খেলা বন্ধ না হলে পৃথিবী এক অনিবার্য পতনের দিকে এগিয়ে যাবে। সঙ্ঘাতের আঁচ হয়তো আমাদের শান্ত গ্রামগুলোতেও স্পর্শ করবে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো মহান নেতার রক্তাক্ত বিদায় কখনো নিঃশব্দে ফুরিয়ে যায় না। আয়াতুল্লাহ খামেনির এই বিদায় পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত এক নতুন সঙ্ঘাতের ঢেউ তৈরি করবে। গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে ছোট ছোট সঙ্ঘাতগুলো ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করেছে। কিন্তু এবারের ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা। ঘটনাটি সরাসরি একটি ব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ ধসিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা। তেহরানের রাজপথে মানুষের জমায়েত কেবল সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে নয় বরং জমায়েতটি একটি বৈশ্বিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ইরাক বা লিবিয়ার মতো পরিস্থিতি ইরানের ক্ষেত্রে ঘটানো অতটা সহজ হবে না। কারণ তাদের রয়েছে এক সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনী এবং দীর্ঘদিনের আত্মনির্ভরশীলতা।
পশ্চিমা বিশ্ব হয়তো ভেবেছিল আঘাতের পর ইরান স্তব্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি উল্টো দিকে মোড় নেয়ার সম্ভাবনা বেশি। যখন কোনো জাতিকে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়া হয়, তখন তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বহু গুণ বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আজ যুদ্ধের কালো মেঘ জমেছে। এ মেঘবারুদ বর্ষণ করলে তার ফল ভোগ করতে হবে পুরো মানবজাতিকে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতির প্রকোপ এবার হয়তো সব সীমা ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বনেতাদের অহঙ্কার আর সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি আজ এক অসম লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হবে তা বড় কথা নয় বরং কতগুলো নিরীহ প্রাণ ঝরে যাবে সেটিই বড় উদ্বেগের বিষয়। সভ্যতার চাকা আজ উল্টো দিকে ঘুরছে। ক্ষমতার দাপটে পিষ্ট হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের অন্ন আর বস্ত্রের নিশ্চয়তা।
এই লেখা যখন শেষ করতে যাচ্ছি, তখন মনের গহীনে কেবল একটি প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছে। বিশ্ব কি তবে ধ্বংসের উপাসনা করছে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, কোনো দেশ বা জাতির সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে কখনো প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং হত্যা প্রতিহিংসার এক নতুন বিষবৃক্ষ রোপণ করে মাত্র। তেহরানের ধ্বংসস্তূপ থেকে আজ যে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছে, তা নিভিয়ে ফেলার শক্তি কি আজ বিশ্ববিবেকের আছে। যখন শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আলোচনার টেবিল ছেড়ে আকাশের পথ ধরে মৃত্যুবর্ষণে মেতে ওঠে; তখন বুঝতে হবে— সভ্যতা আজ এক অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছে। মানবতা আজ বড় বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। ইরানের রাজপথে এখন যে কান্না আমরা দেখছি, তা কেবল এক রাজনৈতিক নেতার জন্য নয়। কান্নাটি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্ক। আমাদের এ সুন্দর পৃথিবী কি শুধু যুদ্ধ আর বারুদের গন্ধ পেতে তৈরি হয়েছিল।
সাধারণ মানুষ শুধু একটু শান্তি আর নিরাপত্তা চায়। অথচ গুটিকয়েক মানুষের জিঘাংসা আর ক্ষমতার দাপটে আজ পুরো মানবজাতি এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার আঁচ প্রতিটি জনপদকে স্পর্শ করবে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো বিজয়ী পক্ষ কখনো প্রকৃত বীর হিসেবে পরিচিতি পায়নি। বিজয়ের হাসি সেখানে রক্তে ভেজা থাকে। শেষবেলায় কেবল আমাদের প্রার্থনা, বিশ্বনেতাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। প্রতিশোধের নেশায় মত্ত না হয়ে তারা যদি মানুষের জীবনের মূল্য বুঝতে শিখতেন; তবে হয়তো আজকের বিষণ্ন সকালটি আমাদের দেখতে হতো না।
আমরা এক শোকাতুর বিদায়ের সাক্ষী হয়ে রইলাম ঠিকই কিন্তু যুদ্ধের নতুন দামামা যেন পৃথিবীর শেষ ধ্বংসের বারতা না হয়। শান্তির সাদা পায়রাগুলো কি তবে চিরতরে পাখা গুটিয়ে নিলো। উত্তর সময়ের কাছে তোলা থাকল। আমরা শুধু এ ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে পারি, ধ্বংস নয় বরং জয় হোক কেবল মানবতার। ভালোবাসা আর সহমর্মিতা যেন শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। মানুষে মানুষে হিংসা ভুলে পৃথিবীটা যেন আবারো শান্ত ও শীতল হয়ে ওঠে। শোকের কালো মেঘ চিরে একদিন নিশ্চয় শান্তির সোনালি সূর্য উঠবে। সেই প্রতীক্ষায় রইল এক শোকার্ত পৃথিবী।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক