দেশের মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল করতে আরও ৪৪০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এই ঋণের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে এই ঋণের সীমা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ১১টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
ফাউন্ডেশনের রিভলভিং তহবিল থেকে প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে ৮ শতাংশ সুদে। এছাড়া জাইকা (JICA)-এর সহায়তায় কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ১৪৫ কোটি টাকার আরেকটি তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের কোনো জামানত দিতে হবে না। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৪ বছর সময় পাবেন, যার মধ্যে ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মোট ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের এবং ২০ শতাংশ বিভিন্ন এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া তহবিলের ৬০ শতাংশ উৎপাদনশীল খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে এসএমই খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবনমুখী করে তোলা জরুরি। এই ঋণ সহায়তা নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সাব-সেক্টর, আমদানির বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী, আইসিটি খাতের নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মুদি দোকান বা পরিবেশ দূষণকারী ব্যবসার ক্ষেত্রে এই ঋণ প্রযোজ্য হবে না।