ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেওয়া কড়া হুঁশিয়ারির মধ্যেই ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরিয়ে দিলে ইরানের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে—তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।
সিনেট কমিটির উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় রুবিও বলেন, ইরানের শাসক পরিবর্তন ঘটানো ভেনেজুয়েলার মতো সহজ বিষয় নয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি বলেন, ‘এটা কোনো ফ্রোজেন খাবার নয়, যেটা মাইক্রোওভেনে ঢুকিয়ে দুই–আড়াই মিনিটে তৈরি হয়ে যাবে। এগুলো খুবই জটিল বিষয়।’
রুবিও আরও বলেন, খামেনি বা বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতন হলে এরপর কী ঘটবে—সে বিষয়ে কোনো সহজ বা স্পষ্ট উত্তর কারও কাছে নেই।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

রুবিওর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে আসলো যখনযখন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানকে আবারও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
জবাবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে তারা তাৎক্ষণিক ও শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইরানের এই হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আগাম পদক্ষেপ নিয়ে হাজার হাজার মার্কিন সেনা, আঞ্চলিক স্থাপনা ও মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি যেন সেই পর্যায়ে না যায়।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বড় মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে।
তিনি ইরানকে দ্রুত আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধে একটি ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। সময় ফুরিয়ে আসছে।’
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান রাজি না হলে পরবর্তী হামলা আগের চেয়েও ভয়াবহ হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক চাপ এখনো একটি বিকল্প। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, হোয়াইট হাউসের বক্তব্যে এখন পারমাণবিক ইস্যুই প্রধান গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরান অবশ্য সামরিক হুমকির মধ্যে আলোচনা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘হুমকির পরিবেশে কোনো আলোচনা হতে পারে না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের কৌশলকে অকার্যকর ও উল্টো ফলদায়ক বলে মন্তব্য করেন।
ইরান আরও সতর্ক করে বলেছে, কোনো মার্কিন সামরিক হামলা হলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং তা বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা হতে পারে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর পড়বে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি