ছবির ক্যাপশান,
ভারত - বাংলাদেশের সীমান্তে বিএসএফের প্রহরা
Published
৫৮ মিনিট আগেপড়ার সময়: ৭ মিনিট
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে কথিত বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী'দের তার রাজ্যের পুলিশ গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে, তারপরে তারাই ওই কথিত 'অনুপ্রবেশকারী'দের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু এতদিন ধরে আইন অনুযায়ী যেভাবে বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী'দের ফেরত পাঠানো হতো, নতুন নিয়ম তার থেকে কতটা আলাদা?
বাংলাদেশ থেকে আসা কথিত 'অনুপ্রবেশকারী'রা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সবসময়েই একটা ইস্যু হয়ে থেকেছে বিজেপির কাছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও এই ইস্যুতে নিয়ে সরব ছিলেন নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
ভোট শেষ হয়ে নতুন সরকার গঠনের পরেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে কীভাবে তার সরকার কথিত বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী'দের ফেরত পাঠাবে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়, বিদেশি আইনের ১৪এ ধারায় মামলা হয় এবং বিচারের পরে কোর্ট সেই ব্যক্তির সাজা নির্ধারণ করে।
সাজার মেয়াদ শেষ হলে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে রাজ্য সরকার বাংলাদেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করে, সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব ও তার নিজের দেশে ঠিকানা ইত্যাদি সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে শেষ পর্যন্ত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই আইন অনুমোদিত নিয়মের বাইরেও আরেকটি অলিখিত নিয়ম চলে সীমান্তে, যার নাম 'পুশ ব্যাক' পদ্ধতি।
এই ক্ষেত্রে ভারতে আটক হওয়া বাংলাদেশিকে বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাতের অন্ধকারে সীমান্তের অন্যদিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
গত প্রায় এক বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী' সন্দেহে অনেককে এভাবেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের মধ্যে অনেকেই ভারতের বৈধ নাগরিক ছিলেন - যাদের আবার চাপের মুখে পড়ে পরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
ওই পদ্ধতির আইনি বৈধতা প্রশ্নের মুখে থাকলেও গত বছরের মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা জারি করে, যেখানে কীভাবে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের তাদের দেশে পাঠানো হবে, সেই পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সেখানে যে পদ্ধতির কথা লেখা হয়েছে, সেটা আদতে 'পুশ-ব্যাক'-ই।
'পুশ ব্যাক' পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই বিএসএফ নিয়ে থাকে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনী কখনোই বিষয়টি স্বীকার করেনি।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
বুধবার রাজ্য সচিবালয় 'নবান্ন'-র সভাঘরে বিএসএফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমির একাংশ বিএসএফ-কে হস্তান্তর করা হয়।
সীমান্ত সুরক্ষা এবং জমি হস্তান্তর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার 'অনুপ্রবেশকারী'দের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বছর মে মাসে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী'দের নিয়ে কী করতে হবে বলে যে নির্দেশিকাটি জারি করেছিল, তা ছিল 'অতি গোপনীয়'। তবে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বেশ কয়েকবার এই নির্দেশিকার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন রাজনৈতিক সভায়। কিন্তু সেটির বিষয়বস্তু কখনোই প্রকাশ্যে আসেনি।
ওই নির্দেশিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আমাদের ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৪ই মে ২০২৫-এ যারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তাদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে হ্যান্ডওভার করার জন্য একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল।
"তারিখটা আবার বলি ১৪.০৫.২০২৫। অর্থাৎ এক বছরেরও বেশি আগে। পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকার একদিকে শরণার্থীদের সিএএ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছে; অন্যদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বা আইনকে কাজে লাগায়নি। আজ থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম," ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর।
এর আগে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে তার অধীনে থাকা রাজ্য পুলিশ সন্দেহভাজন 'অনুপ্রবেশকারী' আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। এরপরে তারা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই কথিত 'অনুপ্রবেশকারী'কে সীমান্ত পার করে দেবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন দিল্লির ড. উপমন্যু বসু। এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, "আসামের মডেলই এখানে (পশ্চিমবঙ্গ) অনুকরণ করা হয়েছে। বিজেপি তাদের ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলিই এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে।"
"তাদের নির্বাচনী ইস্যুর মধ্যে বড় বিষয় ছিল অনুপ্রবেশ। বিএসএফ-কে জমি দেওয়া শুরু হয়েছে এবং এখন অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
"বৃহত্তরভাবে যদি বিষয়টিকে দেখা হয় তাহলে যে কোনো সরকারের কাছেই অবৈধ অনুপ্রবেশ গুরুতর বিষয়। সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে। আবার এক্ষেত্রে এটাও ঠিক যে নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে বলে কেউ ভাবতে পারেন। সমস্ত কিছু মিলিয়ে একটা গ্রে এরিয়া আছে," বলছিলেন ড. বসু।

ছবির উৎস, Debajyoti Chakraborty/NurPhoto via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ছবি-ফাইল চিত্র
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগে একাধিকবার কথিত 'অনুপ্রবেশকারী'দের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেছিলেন যে প্রথমে 'ডিটেক্ট', তারপরে 'ডিলিট', অবশেষে 'ডিপোর্ট'।
অর্থাৎ প্রথম চিহ্নিত করা হবে, তারপরে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে, তারপরে প্রত্যর্পন করা হবে।
কোন তালিকা থেকে কথিত 'অনুপ্রবেশকারী'দের নাম বাদ দেওয়া হবে, তা উল্লেখ না করলেও ধরে নেওয়া যায় যে অবৈধভাবে কোনো বিদেশি যদি ভারতে থেকে থাকেন এবং দেশের নাগরিক তালিকায় তার নাম থেকে থাকে, তাহলে সেখান থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।
এর পরের ধাপে আসবে প্রত্যর্পন।
কারা এর আওতা থেকে বাইরে তা ব্যাখ্যা করেছেন মি. অধিকারী। তার কথায়, "এর ফলে সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত যারা, অর্থাৎ সিএএ তে বলা আছে যে কমিউনিটি 'সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের' আওতায় আসবে এবং যারা ৩১.১২.২০২৪ পর্যন্ত (ভারতে) এসেছেন তাদের পুলিশ কোথাও হ্যারাস, ডিটেন করতে পারবে না।"
"সিএএ-র আওতায় যারা নেই, তারা হলেন কমপ্লিটলি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, ইনফিল্ট্রেটার্স। তাদেরকে সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে, ডিটেন করবে এবং হ্যান্ডওভার করবে বিএসএফ-এর হাতে এবং বিডিআর-এর সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ, ডিটেক্ট, ডিলিট… এবার ডিপোর্ট।"
মি. অধিকারী বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সেটির আগেকার নাম, বিডিআর বলেই উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন থানাগুলোকে এই বিষয়ে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে।
সিএএ বা ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বাংলাদেশে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা জৈন ও পার্শি সম্প্রদায়ের যে মানুষরা ভারতে চলে এসেছেন ধর্মীয় উৎপীড়নের শিকার হয়ে, তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ওইসব দেশের মুসলমানদের ওই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।
ফলে 'সিএএ-র আওতায় যারা নেই' – এ কথা বলে তিনি স্পষ্টত মুসলিমদের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।
কিন্তু এই প্রশ্নও উঠছে যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তো প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ থেকে যেসব অ-মুসলিম ভারতে চলে এসেছেন, তাদের ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন, তার আওতার বাইরে থাকা কাউকে কীভাবে 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে?
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে মানবাধিকারের ইস্যু নিয়ে কাজ করে, এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'মাসুম'এর প্রধান কিরীটি রায় বলছেন, "মুখ্যমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তা সংবিধানবিরোধী। কেউ যদি অপরাধ করে থাকে তার জন্য দেশে আইন আছে, আদালত আছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন প্রথমে ডিটেক্ট করা হবে, ডিলিট করা হবে এবং তারপর ডিপোর্ট করা হবে। এতে কোথাও আইন-আদালতের কথা নেই।"
এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি অন্যান্য রাজ্যের ঘটনাও উল্লেখ করেছেন।
তার কথায়, "এর আগে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, ওড়িশা, রাজস্থানের মতো বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাঙালি মুসলমানদের তুলে নিয়ে গিয়ে ডিপোর্ট করা হয়েছে। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে এবং সেখানে বহু ক্ষেত্রে প্রমাণ হয়েছে যাদের পাঠানো হয়েছিল তারা ভারতীয়।"

ছবির উৎস, Sumit Sanyal/SOPA Images/LightRocket via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে কলকাতায় বামপন্থিদের বিক্ষোভ - ফাইল ছবি
প্রথম থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী সিএএ-র বিরুদ্ধে ছিলেন। তিনি রাজ্যে এটি কার্যকর হতে দেবেন না বলেও বহুবার বলেছেন। বিজেপির তোলা কথিত 'অবৈধ অনুপ্রবেশ' ইস্যু নিয়েও বারবার সরব হয়েছিলেন তিনি, যাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে।
বুধবার শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপের ঘোষণার পর এই নিয়ে নতুনভাবে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেছেন, "যদি অনুপ্রবেশের সমস্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গে হয়ে থাকে তাহলে ত্রিপুরাতে ধরা পড়েছিল কীভাবে? সেখানে তো বিজেপি সরকার। বিএসএফ কী করছিল? সেটি তো কেন্দ্রের হাতে।"
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার অল্প দিনের মধ্যেই বিজেপি সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে কটাক্ষও করতে ছাড়েনি তিনি।
তার কথায়, "এখন নতুন নতুন এসেছে (ক্ষমতায়)। অনেক কিছুই করবে।"
এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাহুল সিন্হার সঙ্গে কথা বলেছিল বিবিসি বাংলা। তিনি বলেছেন, "সিপিএম-এর সময় থেকেই পশ্চিমবঙ্গে এই ইস্যুটা রয়েছে। সিপিএম-ও বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের এনে ভোটার লিস্টে নাম ঢোকানো, তাদের নাম ভোটার লিস্টে তুলে ভোটে জেতার মতো কাজ করে এসেছে।"
"তৃণমূল আসার পর দেখল এর চেয়ে ভালো কোনো রাস্তাই নেই। তৃণমূল একে চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে গেল। এর ফলে ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আমরাই একমাত্র দল যারা অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে," মন্তব্য মি. সিন্হার।
এদিকে, গতবছর সরকার যাদের 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' বলে সন্দেহ করছে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে মহারাষ্ট্র, আসাম, ওড়িশা, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ধড়-পাকড় চলেছে।
একদিকে কেন্দ্র সরকার যেমন দেশের সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছে, তেমনই একাধিক মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে- বাংলাভাষী মুসলিমদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে ওই সব রাজ্যে।
বিরোধীরাও এই নিয়ে সরব হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছিল।
সীমান্তবর্তী বিজেপিশাসিত রাজ্য আসাম, ত্রিপুরা থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বলপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দিয়েও এরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এর মোট সংখ্যা কত সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।
যাদের কেন্দ্র সরকার কথিত 'অনুপ্রবেশকারী' বলে চিহ্নিত করেছে তাদের সংখ্যা ঠিক কত তা সংসদে জানতে চেয়েছেন বিরোধীরা। তাদের দাবি 'সদুত্তর' মেলেনি। তারা এই অভিযোগও তুলেছেন যে নির্দিষ্টভাবে একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে 'নিশানা' করা হচ্ছে বা "বাংলা বললেই বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে"।
কলকাতার 'সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস'-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলছেন, "এই যে অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে তাদের সঠিক সংখ্যা কত? সে বিষয়ে কি রাজ্য সরকার কিছু বলেছে? সেটা তারা বলবে না।"
"এই অ্যাবস্ট্রাক্ট কথা বলা আসলে হেট-মঙ্গারিং (বিদ্বেষ ছড়ানো) করা এবং একটি কমিউনিটিকে টার্গেট করা ছাড়া কিছু নয়।"
বিজেপি নেতা রাহুল সিন্হাকে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "তথ্য তো কংগ্রেস এবং তৃণমূল সরকার নেয়নি। ওরা দিতে দেয়নি। আর দ্বিতীয়ত একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে বলে যে কথা বলছে- তো আমরা স্পষ্ট করে বলেছি বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাতে হবে।"
"এখানে যে ভারতীয় মুসলমান আছেন, তারা তো বহাল তবিয়তে থাকছেন। ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই"।