আমেরিকায় জাতীয় পর্যায়ে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং মিশিগানে প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের মতো মুসলিম রাজনীতিকেরা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় অর্জনের পর। তবে টেক্সাসের রাজনীতিকেরা শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, অনেকে মুসলিম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাও প্রয়োগ করেছেন।
জুনে টেক্সাস প্রথম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হিসেবে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রার্থনা ও বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করে। রিপাবলিকান রাজনৈতিক পরামর্শকেরা বলেছেন, রক্ষণশীল রাজ্যটির অনেক ভোটারের কাছে ইসলাম বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। মুসলিমবিরোধী কর্মীরা ক্রমেই ইসলামকে আমেরিকান মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরছেন। এর রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফ্রেঞ্চ চলতি গ্রীষ্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রতিটা মুসলমান বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’
টেক্সাসের ডালাসে প্রায় ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা অঙ্গরাজ্যটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক থেকে দুই শতাংশ। অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়ন ডেটা আর্কাইভসের তথ্য অনুযায়ী, ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে ৪টি বৃহত্তম কাউন্টিতে মসজিদের সংখ্যা ২০২০ সাল নাগাদ প্রায় ৭৬টিতে দাঁড়িয়েছে। এর উত্তরে দ্রুত বেড়ে ওঠা শহরতলি কলিন কাউন্টিতে মসজিদের সংখ্যা ১২টি। এই তুলনায়, ওই চারটি কাউন্টিতে ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের উপাসনালয় রয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি।
টেক্সাসের ভ্যালি র্যাঞ্চ ইসলামিক সেন্টারসহ বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লিরা নামাজের সময়ও বৈরী মন্তব্যের মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। হিউস্টনের একটি ইসলামিক সেন্টারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কনরোতে এক নারী মুসলিম ক্রেতাদের বলেছেন, তারা এই অঙ্গরাজ্য বা এই দেশে স্বাগত নন। চাকরি হারানোর পর সেই নারী তার সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার সাহায্য পেয়েছেন।
এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ২০২৫ সালের শুরুতে, যখন ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার ডালাসের পূর্বদিকে একটি মসজিদকেন্দ্রিক স্থাপনা গড়ার প্রস্তাব দেয়। গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন। ধর্মীয় অজুর জন্য ব্যবহৃত স্থাপনার কারণে অ্যাবট বিমানবন্দরের অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেন, মুসলিম ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের একটি ওয়াটার-পার্ক অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেন এবং কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ারকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরে ফ্লোরিডাও একই পথে এগোয়।
ড. ওমর সুলেমান আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই মানুষগুলোর মিথ্যা বলা যেন আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হয়, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’ কেয়ারের অস্টিন শাখার শাইমা জায়ান বলেন, ‘আমরা ইসলামবিদ্বেষের ঢেউ প্রত্যক্ষ করছি। এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ঢেউ।’
টেক্সাসের রিপাবলিকানরা বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করা ইসলামিক ট্রাইব্যুনালসহ ইসলামী সাংস্কৃতিক কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। ইসলামিক ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী মারিয়া কারি বলেন, এর নির্দেশনা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত। প্রতিষ্ঠাতা তাহের এল-বদাওয়ি বলেন, ‘‘আমরা কোনো আদালত নই।” ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আইনজীবী আসমা টি. উদ্দিন বলেন, ‘‘এটি হবে ধর্মীয় স্বাধীনতার লড়াই শুরু হওয়ার আগেই জিতে যাওয়ার একটি উপায়, যেখানে অন্য পক্ষকে সেই শ্রেণির বাইরে সংজ্ঞায়িত করে দেওয়া হয়।”