পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার শিয়ালদহ ও রাজাবাজার সংলগ্ন এলাকায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে এক মুসলিম বিক্ষোভকারীকে লক্ষ্য করে ধর্মীয় উসকানিমূলক বার্তা এবং ক্যাশ অন-ডেলিভারিতে (সিওডি) শূকরের মাংস পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের ব্যবহারকারী "শাজাহান_অ্যানিওয়েজ" বেশ কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করেছেন, প্রতিবাদস্থলে থাকাকালীন তিনি 'ব্লিনকিট' অ্যাপের মাধ্যমে একটি নোটিফিকেশন পান, যেখানে তাঁকে আক্ষেপসূচক “হেই মোল্লা” বলে সম্বোধন করা হয়েছিল।
পোস্টের বিবরণ অনুযায়ী, 'শৌর্য শিখর বেতাল' নামের এক ব্যক্তি ওই ডেলিভারিটি পাঠিয়েছিলেন। অর্ডারটিতে এক প্যাকেট শূকরের মাংস ছিল এবং সেটি 'ক্যাশ অন ডেলিভারি' হিসেবে বুক করা হয়েছিল।
উক্ত ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ওই বিক্ষোভকারী উল্লেখ করেন, এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া ও উসকানি সৃষ্টি করা। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এতে তাঁর ধর্মে বিশ্বাস বিন্দুমাত্র টলবে না।
এর পাশাপাশি, পুরো ঘটনায় ক্যাশ অন ডেলিভারি অপশন বেছে নেওয়ায় প্রেরকের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তিনি জানান, একজন নিরপরাধ গিগ ওয়ার্কারকে খামোখা বিপদে ফেলা হয়েছে। 'মোহাম্মদ' নামের যে ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ পার্ক স্ট্রিট থেকে কষ্ট করে রাজাবাজারের মতো ভিড় ও উত্তপ্ত প্রতিবাদস্থলে ওই ক্যাশ অন ডেলিভারির অর্ডার নিয়ে এসেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ভুয়া গ্রাহকের কারণে তাকে খালি হাতে ফিরতে হয়। এতে খেটে খাওয়া ডেলিভারি কর্মীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আক্রমণাত্মক এই ঘটনার জবাবে ওই বিক্ষোভকারী বলেন, তিনি অভিযুক্ত প্রেরককে ঘৃণা করেন না, বরং আশা করেন ভবিষ্যতে তাঁর এই বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতার পরিবর্তন ঘটবে। বৈষম্য ও কুসংস্কার থেকেই মানুষ এ ধরনের কাজ করে উল্লেখ করে তিনি পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর জোর দেন।
ঘটনাটি ঘিরে জনপ্রিয় কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম 'ব্লিনকিট'-এর নিরাপত্তা ও নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই তরুণ। কীভাবে গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমে এ ধরনের গালিগালাজ বা বিদ্বেষমূলক বার্তা পাঠাতে পারছে এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনা রুখতে সংস্থাটি কী পদক্ষেপ নেবে—তা জানতে চেয়েছেন তিনি।
তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ব্লিনকিটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।