গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগে নোটিশ দেয়ার পরও সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। বরং নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকায় পৌরসভার কার্যকারিতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ এবং আইনগত ব্যবস্থার সতর্কতা থাকলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি পৌরসভা। এতে পৌরসভার কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগও সামনে আসছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উজিলাব পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো: আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ এবং অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত কাজের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর শ্রীপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে তাকে একটি লিখিত নোটিশ দেয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, পৌরসভার অনুমোদন গ্রহণ না করে এবং নির্ধারিত সেটব্যাক অনুসরণ না করে আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনা ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সাথে অনুমোদিত নকশার ধরন পরিবর্তনের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে অভিযুক্তকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে অনুমোদনপত্র, অনুমোদিত নকশা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পৌরসভার নগর পরিকল্পনা শাখায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় পৌর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। বরং ভবনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে পৌরসভার নোটিশ কি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে?

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুধু নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। যদি সত্যিই অনুমোদন না থাকে, তাহলে নির্মাণকাজ বন্ধ করা উচিত ছিল। অথচ দিনের পর দিন কাজ চলছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয়েছে, প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে পৌরসভা নীরব ভূমিকা পালন করছে।

তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ সামান্য নিয়ম ভঙ করলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু বড় নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বৈষম্যের অভিযোগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নাহিদ ভূঞা বলেন, ‘পৌর এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আইন ও বিধিমালা মেনে নির্মাণকাজ করা বাধ্যতামূলক। নোটিশের জবাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পৌরসভার টাউন প্ল্যানার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পৌর এলাকার সবাইকে আইনানুগভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কেউ আদেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে।’

অভিযুক্ত মো: আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এবং আইন মেনেই বাড়ির নির্মাণ কাজ করছি।’

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এমন চিত্র পাওয়া যায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, নোটিশের পর পৌরসভা কোনো পরিদর্শন করেছে কি না, নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, কিংবা পৌর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে সব নাগরিকের জন্য একই আইন কার্যকর করতে হবে। শুধু নোটিশ প্রদান নয়, প্রয়োজনে নির্মাণকাজ বন্ধ, জরিমানা কিংবা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা আরো বাড়বে এবং ভবিষ্যতে পৌর এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যাহত হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews