এসবিআই রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে স্বর্ণ আমদানি ২০২৪ সালের ৫ হাজার ৭শ’ ৯০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে রেকর্ড ৭ হাজার ২শ’ ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপের কারণে, আমদানি করা স্বর্ণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশটির জন্য ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ, ভারতের পরিবারগুলোর মধ্যেই ইতোমধ্যে স্বর্ণের এক বিশাল ভান্ডার রয়েছে। অনুমান করা হয়, সারা দেশের পরিবারগুলোর কাছে প্রায় ৩৫হাজার টন স্বর্ণ রয়েছে, যার বেশিরভাগই লকারে সংরক্ষিত এবং খুব কমই ব্যবহৃত হয়। ক্রমবর্ধমান আমদানি এবং দেশের অব্যবহৃত স্বর্ণ ভান্ডারের মধ্যে এই বৈপরীত্য দূর করতে সংগঠিত গয়না বিক্রেতারা তাদের বিনিময় উদ্যোগ প্রসারিত করেছে, যা ভোক্তাদের আচরণকে নতুনভাবে প্রভাবিত করতে শুরু করেছে।
বর্তমানে ভারতীয় ভোক্তারা সম্পূর্ণ নতুন স্বর্ণ কেনার পরিবর্তে বিনিময়ের মাধ্যমে গহনা উন্নত করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো শচীন টেন্ডুলকারকে নিয়ে স্বর্ণলঙ্কার নির্মতা প্রতিষ্ঠান তানিশকের ‘আপনার পুরোনো স্বর্ণ ভারতের নতুন শক্তি’ প্রচারাভিযান, যা গ্রাহকদের নতুন সোনা কেনার পরিবর্তে তাদের নিজেদের মালিকানাধীন স্বর্ণের মূল্যকে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেছে।
বিগত বছরগুলোতে ৩৬ লাখেরও বেশি ভারতীয় তানিশকের মাধ্যমে পুরোনো সোনা বিনিময় করেছেন। গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে শুধুমাত্র গত এক বছরেই এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১৪ হাজার কেজিরও বেশি স্বর্ণ পুনরায় প্রচলনে এসেছে। গহনা খাতের বাইরেও, স্বর্ণ বিনিময় কর্মসূচির ব্যাপক প্রচলন পরিবারের অব্যবহৃত স্বর্ণকে ভারতের অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনতে এবং ধীরে ধীরে অতিরিক্ত স্বর্ণ আমদানির উপর দেশটির নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করছে।