দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে নারী ভক্তদের যৌন নিগ্রহ করে আসার এক রোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ‘ক্যাপ্টেন বাবা’র বিরুদ্ধে। অত্যন্ত কৌশলী এবং ক্ষমতাধর এই ব্যক্তি কীভাবে বছরের পর বছর আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে গেছেন, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা যায়, ‘ক্যাপ্টেন বাবা’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি মূলত তার আধ্যাত্মিক ভাবমর্যাদা এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। অসহায় নারী ভক্তরা যখনই তার কাছে আশির্বাদ বা সমস্যার সমাধানের জন্য আসতেন, তখনই তিনি তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন বাবা তার আশ্রমে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন। তিনি নিজেকে দৈব শক্তির অধিকারী দাবি করে নারী ভক্তদের বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং পরবর্তীতে তাদের ব্ল্যাকমেইল বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যৌন লালসার শিকার বানাতেন। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগকারী মহিলারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি, কারণ তাদের ওপর নজরদারি করার জন্য বাবার নিজস্ব বাহিনী ছিল। প্রশ্ন উঠেছে, এত বছর ধরে এই অপরাধ চললেও কেন পুলিশ বা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্যাপ্টেন বাবার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক যোগাযোগ ছিল। যখনই কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করার চেষ্টা করেছেন, তখনই প্রভাবশালী মহলের চাপে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল প্রমাণ লোপাট করতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন সাহসী নারী সাহসের সাথে সামনে এগিয়ে এসে জবানবন্দি দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ক্যাপ্টেন বাবা অশোক খারাটকে প্রেপ্তারের পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে তার অপরাধের অন্ধকার দিকগুলো। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন এবং ভক্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ঘটনা আবারও সমাজকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, আধ্যাত্মিকতার আবরণে ঢাকা অনেক প্রভাবশালী মুখ কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়। সূত্র : টিওআই।