দিদি বলেছিলেন, ‘উই উইল উইন আফটার সানসেট’ অর্থাৎ সূর্যাস্তের পরে উনি জিতবেন কিন্তু সে সূর্যাস্ত আর আসেনি। বিজেপি ২০০ আসনের চেয়ে বেশি আসন জিতে সরকার গঠন করছে। এখন বিজেপি বলছে ১৫ বছরের দুঃশাসনের অবসান হয়েছে বাংলায়। এটা অবশ্যই বাড়িয়ে বলা কারণ দেড় দশক আগে যখন মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় আসেন তখন ইস্যুটা ছিল অন্যরকম।  সেটা ছিল, নন্দীগ্রামে টাটার জমি অধিগ্রহণ ঠেকানো। সে সময় তিনি দুর্বলদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তাই মমতা আসার পরে বলা হয়েছিল ৩৬ বছরের কমিউনিস্ট দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। ইতিহাস আসলে সব সময় বিজয়ীর পক্ষে। তবে এবার বেশ আলোচিত হচ্ছে, নারী  ভোটাররা মমতার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আর জি কর হাসপাতালে যে মহিলা ডাক্তারকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছিল সেই ঘটনায় নারীরা মমতার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। হত্যার শিকার সেই নারীর মা বিজেপির টিকেটে নির্বাচিত হয়েছেন। তারপর বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনায় মমতা ব্যানার্জি ধর্ষিতাদেরকেই দোষ দিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, অতো গভীর রাতে নারীদের বাইরে থাকা উচিত নয়। এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে অপরাধের যারা শিকার, তাদের উপর দোষ চাপিয়ে কোন রাজনীতিকই পার পাবে না।

তাই নির্বাচনের ফলাফলের পর এসব রসালো কথাবার্তা  আজকে খুব চলছে,  খেলা ওভার বা বাংলাকে পাল্টে দেয়া হয়েছে। কাশ্মীরের ওমর আব্দুল্লাহ বলছেন এটা রীতিমতো রাজনৈতিক ভূমিকম্প এবং এই ভূমিকম্পের  ঢেউ ২০২৯ এর নির্বাচনেও  প্রভাব ফেলতে পারে।

- Advertisement -

অনেকেই ঠাট্টা করছেন, কালীঘাটের দেবী এবার টের পেয়েছেন যে সীমাহীন সংখ্যালঘু  তোষণের ফলে পায়ের নীচের মাটি আস্তে আস্তে খসে পড়ছে। সঙ্গে সন্দেশখালি, আর জি কর তো আছেই । তাই চটিচাটাদের  হুকুম দিয়েছেন, বিহারীদের পিছনে লাগ, প্রমাণ কর যে বিজেপি বাঙালিবিরোধী পার্টি। কিন্তু সাবধান, মারোয়াড়িরা যেন চটে না যায় – তাহলে টাকা বন্ধ হয়ে যাবে !

তবে মমতার কফিনে  শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে সন্দেশখালি নামের বাংলাদেশ সীমান্তের সাথে লাগোয়া ছোট্ট একটি দ্বীপ অঞ্চল।  এ নিয়ে বিবিসির পুরনো একটা অনুসন্ধানী  রিপোর্ট পড়ছিলাম। ২০২৪ এর শুরুর দিকের ঘটনা। শাহজাহান শেখ নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তৃণমূলের আশ্রয়ে  প্রশ্রয়ে সন্দেশখালিতে গড়ে তুলে মাফিয়া চক্র। তার কাছে দুর্নীতি,  ভূমি দখল তো মামুলি ব্যাপার,  গা শিউরে ওঠার মতো ভয়ংকর যে কাজটি করত,  রাতের আধারে এলাকার মেয়েদেরকে ডেকে পাঠাতো । কোন পরিবার রাজি না হলে পরিবারের পুরুষদের উপর নেমে আসতো অকথ্য নির্যাতন। মমতা ব্যানার্জি এসব সামাল না দিয়ে উল্টো ভিকটিমদেরকে দোষারোপ করতেন। উল্টো প্রচার করে বেড়াতেন এটা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র। ২০২৪ এর জানুয়ারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট  দুর্নীতির অভিযোগে শাহজাহান শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করে। ওই অভিযানের সময় তার সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয় এবং তিনি পালিয়ে যান। সেই তদন্ত থেকেই কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে।

আজকে পশ্চিমবাংলার নারী ভোটাররা সেই জুলুমের একটা মিস্টি প্রতিশোধ নিলো। পশ্চিম বঙ্গের বন্ধুরা কি বলেন।

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews