গুটি বসন্তের ভয়াবহতা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের টিকাদান কর্মসূচি—সব ক্ষেত্রেই টিকার গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা। টিকা নিয়ে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাগো নিউজকে ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, আজ থেকে ৭০-৮০ বছর আগে যখন ইংরেজরা গুটি বসন্তের টিকা প্রদান শুরু করে, তখন মানুষ সেই রোগের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছিল। ফলে তারা টিকাকে আল্লাহর রহমত হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

তিনি জানান, বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় এবং এর মাধ্যমে বহু প্রাণঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু মানুষ টিকা না নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

‘হার্ড ইমিউনিটি’ (Herd Immunity) বিষয়টি তুলে ধরে ডা. যাকিয়া সুলতানা বলেন, একটি জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ টিকা নিলে বাকি ২০ শতাংশ মানুষও পরোক্ষভাবে সুরক্ষা পায়। কারণ টিকা নেওয়া মানুষদের মধ্যে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়।

ডা. নীলা বলেন, অনেকে বলেন, অমুক-তমুক টিকা নেয়নি তবুও তাদের কিছু হয়নি—আসলে এর পেছনে কাজ করছে হার্ড ইমিউনিটি।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তিনি বলেন, বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, গ্রামের মানুষ টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন। দুর্গম চরাঞ্চলেও মানুষ টিকাদানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ টিকা নেয় বলেই অনেক ক্ষেত্রে যারা টিকা নেয় না, তারাও নিরাপদ থাকে। অথচ কিছু তথাকথিত সেলিব্রেটি টিকা না নেওয়ার পক্ষে প্রচারণা চালায়, যা বিভ্রান্তিকর।

ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা টিকাকে আল্লাহর দান হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টিকা দিন, শিশুদের এই মহান নেয়ামতের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করবেন না।

এসইউজে/এমএমকে



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews