পৃথিবীর নানা দেশেই রাজনীতিবিদেরা বিভিন্ন সংকটের সময়ে ধর্মীয় গুরু, পীর সাহেব কিংবা জ্যোতিষীদের পরামর্শ নিয়েছেন, এমন উদাহরণ ভূরি ভূরি আছে। কেউ পরামর্শ নিয়েছেন নির্বাচিত হতে, আবার কেউ নির্বাচিত হওয়ার পর পরামর্শ নিয়েছেন রাষ্ট্র পরিচালনায় সাহায্য নিতে, আবার কেউবা অন্য কোনো কারণে।
আবার কিছু রাজনীতিবিদ নিজেরাই পীর কিংবা ধর্মগুরু। যেমন চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করীম, তাঁর রয়েছে নিজস্ব রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন। ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ একজন পুরোহিত ও ধর্মগুরু হিসেবেও পরিচিত।
মাওলানা ভাসানীর বর্ণাঢ্য জীবনে তাঁর ছিল নানান পরিচয়। তিনি ছিলেন বিপুলসংখ্যক জনগণের ধর্মীয় পীর; আবার তাঁর রাজনৈতিক অনুসারীর সংখ্যাও ছিল প্রচুর, তাঁদের অনেকেই তাঁকে রাজনৈতিক গুরু মানতেন।
তবে আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি এই দুই পরিচয়ের মধ্যে একটা বিভাজন বজায় রাখতেন। যাঁরা রাজনীতি করতেন, তিনি তাঁদের ধর্মীয় পীর ছিলেন না। আবার তাঁর মুরিদদের তিনি কখনো তাঁর দলীয় রাজনীতিতে জড়াতেন না।
তাঁর সম্বন্ধে তাঁর জীবদ্দশায় একটি কথা প্রচলিত ছিল যে তিনি সকালের সময়টা মুরিদদের জন্য বরাদ্দ রাখতেন এবং বিকেলটা কাটাতেন রাজনৈতিক অনুসারীদের সঙ্গে।