নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে খুব ছোট বয়সেই ঢাকায় এসেছিলেন আমজাদ। বয়স তখন সাত কি আট। তাঁর চাচা মো. করিম ছিলেন কারওয়ান বাজারের পরিচিত কসাই। চাচার হাত ধরেই রাজধানীর ব্যস্ত এই বাজারে তাঁর পথচলা।
শুরুতে অবশ্য হাতে ছুরি ওঠেনি। চাচার ফাইফরমাশ খাটতেন—চা এনে দেওয়া, বাসা থেকে দুপুরের খাবার নিয়ে আসা, বাজারের ব্যাগ বাসায় পৌঁছে দেওয়া। তারপর ধীরে ধীরে কসাইখানার কাজ শেখা। কীভাবে পশুর পা বাঁধতে হয়, আলগোছে কীভাবে পশুটাকে শোয়ানো যায়, জবাইয়ের পর কীভাবে চামড়া আলাদা করতে হয়, কোথায় চাপ দিলে মাংস নষ্ট হয় না—সব হাতে–কলমে শিখেছেন।
সেই ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত কারওয়ান বাজারেই আছেন। এখন তাঁর নিজের দোকান। সেখানে কাজ করেন ছয়জন।
গ্রামের বাড়িতে থাকেন স্ত্রী আর দুই ছেলে। বসুন্ধরা শপিং মলের পেছনের তেজতুরীবাজারের একটি মেসে থাকেন আমজাদ। প্রতি সপ্তাহেই বাড়ি যান। কিন্তু কোরবানির ঈদে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ, শুধু শক্তি থাকলেই হয় না; মাংস প্রস্তুতের জন্য দরকার অভিজ্ঞতা। আর এ জন্য চাই দক্ষ কসাই। আমজাদ বলেন, ‘আমি যেভাবে সুন্দরভাবে কাটতে পারব, সবাই তো তা পারবে না। ভুলভাবে কাটলে চামড়া নষ্ট, গোশতও নষ্ট। এত দামের গরু কিনে কেউ তো সেটা নষ্ট করতে চাইবে না।’