দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অখণ্ড ও নিরাপদ রাখতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আঘাত করার একটি গভীর চক্রান্ত।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কার্যালয়ে বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ পরিবারের আহাজারি জাতির জন্য অভিশাপ। অনতিবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারের নামে নাটক সাজিয়ে যেসব নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানায় ৫৪ জন উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা প্রমাণ করে তারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত হওয়া প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির বলেন, সেদিন পিলখানার দরবার হলে শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি যাননি, যা প্রমাণ করে এটি পরিকল্পিত ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বিডিআর সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে সেনাসদস্যদের রক্তের সাথে উপহাস করেছেন। তিনি চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, ড. আব্দুল মান্নান এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ।
সভা শেষে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাকর্মকর্তাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।