নিউজিল্যান্ড দলটায় নেই তাদের সেরা খেলোয়াড়দের কেউ। চুক্তিবদ্ধ ১৫ ক্রিকেটারের কেউ আইপিএলে, কেউ পিএসএলে। তবে ‘দ্বিতীয় সারির’ এই দল নিয়েই বাজিমাত করল কিউইরা।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই ব্যাটিং ধসে হোচট খেল বাংলাদেশ। হাতের মুঠোয় থাকা জয়টা হাতছাড়া হয়েছে দায়িত্বহীনতায়। শুক্রবার মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২৬ রানে হেরেছে টাইগাররা।

সবকিছু ঠিকই ছিল। তবে এক ব্রেয়ার টিকনার শেষ করে দেন সব। শেষ দিকে এসে মাত্র ৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ভেঙে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বপ্ন। মাত্র ৩৭ রানে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৬ উইকেট।

রান তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। চতুর্থ ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট তুলে নেন নাথান স্মিথ। তানজিদ তামিম ২ ও নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হন কোনো রান না করেই।

২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। পাকিস্তান সিরিজের ব্যর্থতা কাটিয়ে ফিফটি তুলে নেন সাইফ। যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পঞ্চাশ।

যদিও ইনিংসটা আর বড় হয়নি। তার ৮ চার ১ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটা শেষ হয় ৭৬ বলে ৫৭ রানে। তাতে ভাঙে লিটন দাসের সাথে তার ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটি।

দ্রুত ফেরেন লিটনও। ২৮ ওভারে দলকে ১৩২ রানে রেখে আউট হন তিনি। ফেরার আগে ৬৮ বলে করেন ৪৬ রান। এরপর হৃদয় ও আফিফ মিলে ৫২ রান যোগ করলেও রানে গতি ছিল না।

এই জুটি ভাঙে আফিফের বিদায়ে। ৪৯ বলে ২৭ রানে আফিফ আউট হলে চাপে পড়ে যায় দল। সেই চাপ আরো বাড়ে মিরাজ ১৪ বলে মাত্র ৬ রানে আউট হলে।

৪৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৯৫। জয়ের জন্য তখনো ৩৬ বলে ৫৩ রান প্রয়োজন। যেখানে হৃদয় ছাড়া স্বীকৃত ব্যাটার ছিলেন না আর কেউ। শেষ পর্যন্ত দলকে লড়াইয়ে রাখেন তিনিই।

তবে অন্য প্রান্ত থেকে সমর্থন পাননি হৃদয়। ৪৮.৩ ওভারে শেষ উইকেট হিসেবে ফেরার আগে ৬০ বলে ৫৫ রান করেন তিনি। বাকিদের মাঝে রিশাদ করেন সর্বোচ্চ ৪ রান।

টিকনার ৪০ রানে ৪ উইকেট ও নাথান স্মিথ ৪৫ রানে নেন ৩ উইকেট।

এর আগে, টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি কিউইরা। প্রথম ১০ ওভার ছিল বাংলাদেশের অনুকূলে। এই সময়ে ১ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ৩৮ রান।

যেখানে ৪৮টি ডট বল আদায় করে নেন টাইগার বোলাররা। শরিফুল নিজের ৫ ওভারে ২৭টিই ডট দেন। একমাত্র উইকেটটাও ছিল তার। ৬.৩ ওভারে দলীয় ২১ রানে ফেরান নিক কেলিকে।

২৩ বলে ৭ রান করে বোল্ড হন কেলি। পরে আরো একটা সুযোগ তৈরি করেন তিনি। নবম ওভারে তার বলে স্লিপে উইল ইয়াংয়ের ক্যাচ ফেলেন সাইফ। তখন ইয়ং মাত্র ১ রানে ছিলেন।

তবে জীবন পেয়ে হেনরি নিকোলসকে নিয়ে গড়েন ৭৩ রানের জুটি। তাতে খানিকটা চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকেরা। তবে চাপ বড় হতে দেননি রিশাদ। ২২তম ওভারে ইয়ংকে ৪২ বলে ৩০ রানে ফেরান তিনি।

এরপর টম লাথামকে (১৪) মিরাজ ফেরালে স্বস্তি ফেরে শিবিরে।। এর আগেই অবশ্য ফিফটি তুলে নেন নিকোলস। হাঁটছিলেন শতকের পথেই। তবে ৮৩ বলে ৬৮ রানে পৌঁছাতেই তাকে থামান রিশাদ।

৯ বলের মাঝে ২ উইকেট নিয়ে যেন উদ্যম ফিরে আসে বাংলাদেশ দলে। কিউইদের রান তখন ২৮ ওভারে ১৩১/৪। পঞ্চম উইকেটটি আসে ১৬৫ রানে, এবার আব্বাসকে (১৪) ফেরান শরিফুল।

তবে এরপর একপাশ আগলে রেখে দারুণ এক ইনিংস খেলেন ফক্সক্রফট। তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। এছাড়া শেষ দিকে নাথান স্মিথ ২২ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন।

বিপরীতে জোড়া উইকেট করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews