প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি, দীর্ঘ সম্পর্কের ব্যস্ততায় কীভাবে নিজের যত্ন এবং একসঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর অভ্যাস কমে যেতে পারে। একসঙ্গে workout সেই দূরত্ব কমানোর একটি সুন্দর উপায় হতে পারে। তবে প্রশ্ন হলো-শুরু করবেন কীভাবে?
এর জন্য দুজনকেই gym membership নিতে হবে, expensive equipment কিনতে হবে কিংবা প্রতিদিন এক ঘণ্টা workout করতে হবে-এমন কোনো নিয়ম নেই।
বরং সহজভাবে শুরু করাই সবচেয়ে ভালো।
প্রথম দিনেই এক ঘণ্টার কঠিন workout করার দরকার নেই।
সপ্তাহে তিন দিন ২০-৩০ মিনিট brisk walking দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
প্রথমে পাঁচ মিনিট ধীরে হাঁটুন। এরপর ১৫-২০ মিনিট একটু দ্রুত গতিতে হাঁটুন। শেষে কয়েক মিনিট ধীরে হাঁটুন।
এই সময়টুকুতে workout-এর পাশাপাশি গল্প করুন।
তবে একটি নিয়ম করতে পারেন-এই সময়ে সম্ভব হলে মোবাইল দূরে থাকবে।
কারণ দুজন পাশাপাশি হাঁটছেন, অথচ একজন Facebook দেখছেন আর অন্যজন TikTok-এটা technically একসঙ্গে হাঁটা হলেও relationship-এর দিক থেকে খুব একটা together নয়!
দুজনের fitness level একরকম হবে-এমন কোনো কথা নেই।
একজন হয়তো বেশি ওজন তুলতে পারেন, অন্যজন হালকা workout করতে পারেন। একজন treadmill পছন্দ করেন, অন্যজন cycling পছন্দ করেন।
এতে কোনো সমস্যা নেই। একসঙ্গে gym-এ গিয়ে প্রত্যেকে নিজের workout করতে পারেন। মাঝেমধ্যে একে অপরকে উৎসাহ দিতে পারেন।
এতে competition নয়, companionship তৈরি হয়।
দম্পতিরা চাইলে একসঙ্গে করতে পারেন-
Walking: সবচেয়ে সহজ এবং প্রায় কোনো equipment-এর প্রয়োজন নেই।
Cycling: weekend-এ দুজন মিলে cycling করতে পারেন।
Bodyweight Exercise: squats, lunges, push-ups বা সহজ stretching বাড়িতেই করা যায়।
Yoga বা Stretching: সকালে বা সন্ধ্যায় দুজন একসঙ্গে stretching করতে পারেন।
Dance Workout: যারা traditional exercise পছন্দ করেন না, তারা পছন্দের গান চালিয়ে নাচতেও পারেন।
উদ্দেশ্য হলো এমন একটি activity বেছে নেওয়া, যেটি দুজনই উপভোগ করেন।
দম্পতি হিসেবে fitness journey আরও মজার হতে পারে যদি দুজন মিলে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।
যেমন-
সপ্তাহে তিন দিন হাঁটা।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক steps সম্পন্ন করা।
সপ্তাহান্তে cycling করা।
রাতে অতিরিক্ত junk food কমানো।
একসঙ্গে healthy breakfast তৈরি করা।
তবে লক্ষ্য যেন বাস্তবসম্মত হয়।
এক মাসে ১০ কেজি ওজন কমাব-এর মতো কঠিন লক্ষ্য না রেখে “আগামী এক মাস নিয়মিত exercise করব-এমন লক্ষ্য অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।
দুজনের মধ্যে কে বেশি calories burn করল, কে বেশি weight তুলল কিংবা কার শরীর দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে-এসব নিয়ে প্রতিযোগিতা করার দরকার নেই।
কারণ প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা।
একজন দ্রুত ফল পেতে পারেন, অন্যজনের একটু বেশি সময় লাগতে পারে।
সঙ্গীকে বিচার করার পরিবর্তে উৎসাহ দিন।
আজ workout করতে পারেননি? সমস্যা নেই।
আজ একটু বেশি খেয়ে ফেলেছেন? পরের meal-টা balanced করুন।
একটি ভুলের কারণে পুরো routine ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
Fitness শুধু gym-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
দুজন মিলে healthy খাবারের পরিকল্পনা করতে পারেন। সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করতে পারেন। বাড়িতে রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল, চিনি বা অস্বাস্থ্যকর snack কমানোর চেষ্টা করতে পারেন।
এখানেও একে অপরকে police করার দরকার নেই।
তুমি এটা খেতে পারবে না- এর পরিবর্তে বলা যেতে পারে-
চলো, আজ এটা দুজন মিলে বানাই।
Healthy lifestyle তখন শাস্তি মনে হবে না; বরং shared lifestyle হয়ে উঠবে।
সপ্তাহের ব্যস্ততায় প্রতিদিন সময় না পেলেও weekend-এ একটি বিশেষ routine তৈরি করা যায়।
সকালে দুজন মিলে পার্কে হাঁটা, তারপর healthy breakfast। অথবা cycling করে কোনো সুন্দর জায়গায় যাওয়া।
এতে workout-এর সঙ্গে date-এর আনন্দও যোগ হয়।
অর্থাৎ আলাদা করে date night আয়োজন না করেও সম্পর্কের জন্য বিশেষ সময় তৈরি করা যায়।
সব workout productive হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই।
কোনোদিন হয়তো দুজন মাত্র ১৫ মিনিট হাঁটলেন। কোনোদিন পাঁচ মিনিট stretching করেই থেমে গেলেন। কোনোদিন workout না করে শুধু পার্কের বেঞ্চে বসে গল্প করলেন।
তাতেও ক্ষতি নেই।
কারণ এখানে লক্ষ্য শুধু calories burn করা নয়। লক্ষ্য হলো-দুজনের জীবনে একে অপরের জন্য কিছু সময় নিশ্চিত করা।
Fitness-এর নামে সঙ্গীর শরীর নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনা করা উচিত নয়। কেউ ওজন কমাতে চাইলে তাকে সাহায্য করুন। কিন্তু তার শরীরকে নিজের project বানাবেন না।
ভালোবাসার মানুষকে motivate করা আর তাকে constantly criticize করা-দুটির মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।
বলুন-আমি তোমার সঙ্গে আছি।
না যে-তোমাকে এমন হতেই হবে।
এই পার্থক্যই একটি healthy relationship-এর ভিত্তি।
সম্পর্কের শুরুতে ভালোবাসা অনেক কিছু স্বাভাবিকভাবেই করিয়ে দেয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে সচেতন effort দরকার।
নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া সেই effort-এর একটি অংশ।
সঙ্গীর সঙ্গে হাঁটা, একসঙ্গে gym-এ যাওয়া, healthy খাবার তৈরি করা, weekend cycling কিংবা ঘরে কয়েক মিনিট exercise-এসব দেখতে ছোট কাজ।
কিন্তু দীর্ঘ সম্পর্ক আসলে এমন ছোট ছোট কাজের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে।
কারণ শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা শুধু আমি তোমাকে ভালোবাসি বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ভালোবাসা হলো চলো, আমরা দুজন একসঙ্গে ভালো থাকি।
আর সেই ভালো থাকা-র যাত্রায় একটি workout session হয়তো শরীরকে fit রাখবে, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা-দুজনকে আবার মনে করিয়ে দেবে, জীবনের ব্যস্ত দৌড়ে তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, একই দলের মানুষ।