অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ।
এই নার্ভগুলো বিভিন্ন অঙ্গ থেকে তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় এবং মস্তিষ্কের নির্দেশ আবার অঙ্গগুলোর কাছে পৌঁছে দেয়। ফলে এই নার্ভগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেহের প্রায় সব অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। যেমন—
পাকস্থলী ও অন্ত্র: পাকস্থলীর সংকোচন-প্রসারণ এবং অন্ত্রের চলন বা পেরিস্টালসিস নিয়ন্ত্রণ করে এই নার্ভগুলো। এতে সমস্যা হলে পরিচলন ধীর হয়ে যায় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। পেট ভরা থাকে, সহজে খাবার নিচে নামে না। একবার কিছু খেলে আবার খাবার খাওয়ার রুচি হয় না। কখনও কখনও কিছুদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকার পর আবার ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।
মূত্রতন্ত্র: মূত্রনালী বা ইউরিনারি ব্লাডারের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেমন অল্পতেই প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, মূত্রথলিতে প্রস্রাব রয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
জননাঙ্গ: পুরুষের ইরেকটাইল ডিসফাংশনের অন্যতম কারণ অটোনমিক নিউরোপ্যাথি।
হৃদযন্ত্র: স্বাভাবিক মানুষের হৃৎস্পন্দনের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে এই নার্ভাস সিস্টেম। যেমন দৌড়ালে হৃৎস্পন্দন বাড়ার কথা, আবার বিশ্রামে বা ঘুমন্ত অবস্থায় হৃৎস্পন্দন কমে যাওয়ার কথা। এই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে দেখা যায় ঘুমের মধ্যেও একজন ব্যক্তির হৃৎস্পন্দন দ্রুত হচ্ছে। একে বলে রেস্টিং ট্যাকিকারডিয়া। এটি অটোনমিক নিউরোপ্যাথির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
রক্তনালী: অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে রক্তনালীর ওপর। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা যখন শোয়া বা বসা থেকে উঠে দাঁড়াই, তখন রক্তচাপ খানিকটা কমে যায় এবং এই নার্ভগুলো দ্রুততম সময়ে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় বলে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, ফলে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
কিন্তু নার্ভ ঠিকভাবে কাজ না করলে বসা বা শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ানোমাত্র মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। অনেক সময় রাতে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যাওয়ার সময় বা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেই মাথা ঘোরে, চোখমুখ অন্ধকার হয়ে আসে এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়তে পারে। একে বলে পোসচুরাল হাইপোটেনশন।
ত্বক: ত্বকের তাপমাত্রা ও ঘাম নিয়ন্ত্রণও অটোনমিক নার্ভের কাজ। এতে সমস্যা হলে অতিরিক্ত বা কম ঘাম, ত্বকের শুষ্কতা, গরম-ঠান্ডার অনুভূতিতে সমস্যা হতে পারে।