যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধে ফরাসি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য প্রমাণ বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে প্যারিসের প্রসিকিউটর দফতর।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের পরিচিতদের তালিকায় বিশিষ্ট ফরাসি ব্যক্তিদের নাম আসার পর এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর দফতর জানিয়েছে, তারা এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক ফরাসি মডেলিং এজেন্সি নির্বাহী জ্যাঁ-লুক ব্রুনেলের মামলাও পুনরায় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে। তিনি ২০২২ সালে হেফাজতে মারা যান।

নতুন দলটি জাতীয় আর্থিক অপরাধ ইউনিটের প্রসিকিউটর এবং পুলিশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যাতে ফরাসি নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট কোনো সন্দেহভাজন অপরাধের বিষয়ে তদন্ত শুরু করা যায় বলে প্রসিকিউটর দফতর জানিয়েছে।

দফতর বলেছে, লক্ষ্য হলো এমন সব তথ্য বের করা, যা নতুন তদন্ত কাঠামোর আওতায় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্রুনেল ২০২২ সালে প্যারিসের একটি কারাগারে নিজ কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। এর আগে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর ২০২৩ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং অন্য কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।

প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তদন্তে দেখা গেছে ব্রুনেল ছিলেন ‘জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ এবং দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের মডেলিং কাজের প্রলোভন দিতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউএস ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, প্যারিস ও ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

প্রসিকিউটর দফতর জানিয়েছে, অন্তত ১০ জন নারী ব্রুনেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাদের কয়েকজন বলেছেন, তাদের মদ্যপানে প্রলুব্ধ করা হয় এবং জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে কয়েকজন ফরাসি জনপরিচিত ব্যক্তির নাম এসেছে, যদিও সেখানে নাম থাকা মানেই অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ নয় বলে প্রসিকিউটর দফতর উল্লেখ করেছে।

দফতর জানিয়েছে, এক ফরাসি কূটনীতিক, এক মডেলিং এজেন্ট ও এক সঙ্গীত পরিচালকের বিরুদ্ধে তিনটি নতুন অভিযোগের বিষয় তারা খতিয়ে দেখছে।

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সিনিয়র কূটনীতিক ফাব্রিস আইদান-এর নাম যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত নথিতে আসার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহে তদন্ত চলছে বলে প্রসিকিউটর দফতর জানিয়েছে।

এক সুইডিশ নারীর করা অভিযোগও দফতর পেয়েছে, যেখানে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মডেল নিয়োগকারী ড্যানিয়েল সিয়াদ-এর বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে ফ্রান্সে সংঘটিত বলে দাবি করা ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ফরাসি অর্কেস্ট্রা পরিচালক ফ্রেদেরিক শাসলিন-এর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা যৌন হয়রানির একটি অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর সাবেক ফরাসি মন্ত্রী জ্যাক ল্যাং একটি শীর্ষ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, আরব ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউটের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

তবে ল্যাং সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, একটি অফশোর কোম্পানির নথিতে তার নাম থাকার বিষয়টি তাকে ‘স্তম্ভিত’ করেছে। জাতীয় আর্থিক প্রসিকিউটরের দপ্তর তার ও তার মেয়ে ক্যারোলিন ল্যাং-এর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর কর ফাঁকি ও অর্থপাচার’-এর অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

রোববার প্রকাশিত লা ত্রিবিউন দিমঁশ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ল্যাং নিজেকে ‘তুষারের মতো নির্মল’ দাবি করে তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যার সুনামি’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে শিশু পতিতাবৃত্তির জন্য এপস্টেইনের দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন না।

২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে।

সূত্র : বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews