দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ও দাবি-দাওয়াও অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক।
তিনি বলেন, গত ১৮০ দিনের সরকারের কার্যক্রম এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্যারিশম্যাটিক পারফরম্যান্সে’ জনগণ আশান্বিত হয়েছে। তবে অস্থিতিশীলতা ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। আগামী দিনে সরকার আরও ভালো করবে—জনগণের এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দলে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনীতি শক্তিশালী করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে জনগণের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকারকে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে। সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন দলের সহসভাপতি হাকিম মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা কবির আহমদ আড়াইহাজারী, সহকারী মহাসচিব মুফতি আলা উদ্দিন কাসেমী, সংগঠন সচিব মাওলানা আনোয়ার হোসেন আনসারী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা এইচ এম আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আলেম ও ব্যবসায়ী মাওলানা আব্দুস সাত্তার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের সাবেক প্রচারসচিব ও ব্যবসায়ী মাওলানা মিজানুর রহমান বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিতে যোগ দেন।
এ সময় তারা দলের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হকের হাতে যোগদানের ফরম জমা দেন। পরে দলীয় নেতারা নবাগতদের স্বাগত জানান।