জাপানকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে তাইওয়ান থেকে চীনে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ পাচারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচন করেছেন তাইওয়ানের প্রসিকিউটররা।
বেইজিংয়ের ওপর ওয়াশিংটনের জারি করা কঠোর রফতানি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অন্তত একটি চালানের মাধ্যমে এই উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপগুলো চীনের মূল ভূখণ্ডে সফলভাবে পাচার করা হয়েছে বলে তাইওয়ানের তদন্তকারীরা প্রবল সন্দেহ করছেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত সপ্তাহে সুপার মাইক্রো কম্পিউটার ইনকর্পোরেটেডের একজন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে তাইওয়ানের কেলুং জেলা প্রসিকিউটর অফিস।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা রপ্তানি সংক্রান্ত নথিপত্র জাল করে এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে দেখিয়েছিলেন যে, মার্কিন চিপ সম্বলিত সুপার মাইক্রোর এই সার্ভারগুলো জাপানে পাঠানো হচ্ছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো হংকং হয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডে পাচার করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপের পর উন্নত প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এবং এআই চিপের অবৈধ সরবরাহ বন্ধে তাইওয়ানের এটিই প্রথম কোনো বড় ধরনের ও প্রকাশ্য ফৌজদারি পদক্ষেপ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিতে এর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রুট ব্যবহারের খবর পাওয়া গেলেও এশিয়ার-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানের রুট ব্যবহার করে চিপ পাচারের ঘটনা এবারই প্রথম সামনে এলো। অভিযানে প্রায় ৫০টি হাই-এন্ড এআই সার্ভার জব্দ করার পাশাপাশি ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে তাইওয়ানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এই অবৈধ পাচার প্রক্রিয়ার সাথে এনভিডিয়া বা সুপার মাইক্রো প্রতিষ্ঠানের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো মেলেনি।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ