সাম্রাজ্য হঠাৎ করে ভাঙে না, ধীরে ধীরে ভাঙে। যখন সামরিক বিস্তার রাজনৈতিক কৌশলকে ছাপিয়ে যায়, যখন অর্থনীতির ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ে, আর যাদের দমিয়ে রাখতে চাওয়া হয়, তারা যখন সময়ের অপেক্ষায় টিকে থাকে, তখনই দমনকারী শক্তির পতনের সূচনা হয়।
১৯৫৬ সালে সুয়েজ খালের জাতীয়করণ ছিল তেমনই এক সন্ধিক্ষণ, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। এই সংকট ব্রিটেনের আর্থিক দুর্বলতাকে নগ্ন করে দিয়েছিল। মার্কিন চাপের মুখে পাউন্ড স্টার্লিংয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে তার অবস্থান দ্রুত ক্ষয়ে গিয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী হাত গুটিয়ে আনা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
সাত দশক পরে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যে সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ক্ষমতার জন্য তেমনই এক মোড় ঘোরানো মুহূর্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই তুলনা নিছক আলংকারিক অর্থে নয়, বাস্তবের গভীরে তার সাযুজ্য রয়েছে।
দুটি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত এক সাম্রাজ্যিক শক্তির মুখোমুখি হয়েছে এমন এক আঞ্চলিক শক্তি, যে আত্মসমর্পণে রাজি নয়। নিজের প্রভাব বজায় রাখতে সাম্রাজ্য নির্ভর করেছে সামরিক শক্তির ওপর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফল শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যে নির্ধারিত হয়নি, বরং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং বিশ্বশক্তির ভারসাম্যের পরিবর্তনে তা নির্ধারিত হয়েছে।