চাঁদে আবার মানুষ পাঠাতে চায় নাসা। শুধু পাঠানোই নয়, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি একটি ঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে। এই পরিকল্পনার নাম ‘আর্টেমিস কর্মসূচি’। এর লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার আগে চাঁদকে একটি প্রস্তুতি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরিকল্পনার পথে একটি ছোট কিন্তু ভয়ংকর সমস্যা আছে। সেটি হলো ‘মাইক্রোমিটিওরয়েড’ বা ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ড।

মাইক্রোমিটিওরয়েড বলতে বোঝায় খুব ছোট উল্কাপিণ্ড বা পাথরের কণা, যেগুলো মহাকাশে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে বেড়ায়। এগুলোর ওজন খুব কম, সর্বোচ্চ প্রায় ১০ গ্রাম। কিন্তু গতি এত বেশি যে এগুলো ধাতব দেয়ালও ভেদ করতে পারে। চাঁদে যদি কোনো ঘাঁটির দেয়ালে এমন কণা আঘাত করে, তাহলে ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এই ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ড্যানিয়েল ইয়াহালোমির নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী। তারা নাসার ব্যবহৃত ‘মিটিওরয়েড ইঞ্জিনিয়ারিং মডেল’ (মহাকাশযানে উল্কার ঝুঁকি পরিমাপের পদ্ধতি) কিছুটা পরিবর্তন করে চাঁদের ঘাঁটির জন্য ব্যবহার করেন।

গবেষণায় ধরে নেওয়া হয়, চাঁদের ঘাঁটিটি হবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো বড়। এরপর চাঁদের বিভিন্ন জায়গায় কল্পিত এক হাজার ঘাঁটির ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। দেখা যায়, চাঁদের বিষুবরেখার কাছে এবং পৃথিবীর বিপরীত পাশে বছরে প্রায় ২৩ হাজারবার ক্ষুদ্র উল্কার আঘাত লাগতে পারে। সেখানে ঝুঁকি বেশি।

তবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। সেখানে আঘাতের সংখ্যা প্রায় দেড় গুণ কম, বছরে প্রায় ১৫ হাজার। এ কারণেই নাসা দক্ষিণ মেরুর কাছেই ঘাঁটি গড়তে আগ্রহী।

গবেষকরা আরও জানান, আধুনিক ‘হুইপল শিল্ড’ (মহাকাশযানের বিশেষ সুরক্ষা দেয়াল) বেশ কার্যকর। ৯৯.৯৯৯৭ শতাংশ ক্ষুদ্র উল্কা এই দেয়াল ভেদ করতে পারে না। ফলে সঠিক সুরক্ষা থাকলে চাঁদে বসবাস সম্ভব বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews