দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলা শান্তিবাদী অবস্থান থেকে বড়সড় মোড় নিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার টোকিও ঘোষণা করেছে, তারা তাদের অস্ত্র রফতানি নীতিতে কয়েক দশকের পুরনো বিধিনিষেধ শিথিল করছে। এর ফলে এখন থেকে বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশের কাছে মারণাস্ত্র বিক্রি করতে পারবে দেশটি।

আঞ্চলিক উত্তেজনার এই সময়ে জাপানের এমন সিদ্ধান্তকে তাদের প্রতিরক্ষা নীতির ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জাপানের অস্ত্র রফতানি কেবল উদ্ধারকাজ, পরিবহন, সতর্কতা জারি, নজরদারি এবং মাইন অপসারণ- এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়মে এই সীমাবদ্ধতা আর থাকছে না। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো যেসব দেশের সাথে জাপানের প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে, তাদের কাছে সরাসরি মারণাস্ত্র বিক্রি করা যাবে।

যদিও যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা এখনই উঠছে না, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রম হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আভাস দিয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, বর্তমানের কঠিন নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোনো দেশই এখন একা নিজের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে না।

তিনি অবশ্য পরিষ্কার করেছেন, গত ৮০ বছর ধরে জাপান যে শান্তিকামী দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই মূলনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। নতুন ব্যবস্থায় কৌশলগতভাবে অস্ত্র পাঠানো হবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।

অন্যদিকে ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা এক ব্রিফিংয়ে বলেন, জাপানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। ১৯৪৭ সালের সংবিধান অনুযায়ী জাপান এতদিন যেকোনো আন্তর্জাতিক বিবাদ মেটাতে যুদ্ধকে বর্জন করে আসছিল। তবে ২০১৪ সালে শিনজো আবে এবং ২০২৩ সালে ফুমিও কিশিদার আমল থেকেই এই কড়াকড়ি ধাপে ধাপে শিথিল হওয়া শুরু হয়।

তাকাইচির এই পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে। তার সমর্থকদের দাবি, চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরনো নিয়ম জাপানের জন্য আর কার্যকর নয়। তবে সমালোচকরা ভয় পাচ্ছেন, এই পরিবর্তনের ফলে জাপান আবারো যুদ্ধমুখী দেশ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের যে কথা উঠছে, তা জাপানকে কোনো সামরিক সংঘাতে টেনে নিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

ঠিক যে সময়ে এই ঘোষণা এলো, তখন ফিলিপাইনে আমেরিকা ও ফিলিপাইনের সাথে বার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে জাপানের সৈন্যরা। এবারই প্রথম তারা পর্যবেক্ষক হিসেবে নয়, সরাসরি যোদ্ধা হিসেবে এই মহড়ায় যোগ দিয়েছে। চীন এই মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির আগে দেয়া কিছু বক্তব্য বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছিল। সব মিলিয়ে জাপানের এই ভোলবদল এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews