ঈদুল আজহার আনন্দে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়ীয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন। হাঁস ধরা, হাঁড়ি ভাঙা, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ এবং শিশুদের বেলুন ফোটানো প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পোড়াবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে “সম্প্রীতি পোড়াবাড়ীয়া”র উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের দুই শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন। কৃষকের হাঁস ধরা খেলায় অংশ নেন ৪৫ জন, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপে ৬০ জন, হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতায় ৭০ জন এবং বেলুন ফোঁটানো খেলায় অংশ নেয় ৫০ জন শিশু-কিশোর।

ঈদের দ্বিতীয় দিনের বিকেল থেকেই মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। শিশু, কিশোর, তরুণ, প্রবীণ ও নারীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক আনন্দমেলায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অসংখ্য মানুষ এ আয়োজন উপভোগ করতে ভিড় জমান।

আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল কৃষকের হাঁস ধরা খেলা। নির্দিষ্ট মাঠে হাঁস ছেড়ে দেওয়ার পর প্রতিযোগীরা দৌড়ে, লাফিয়ে ও নানা কৌশলে হাঁস ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় মজার সব দৃশ্য দেখে দর্শকদের মধ্যে হাসি-আনন্দের রোল পড়ে যায়। করতালি, উল্লাস আর উৎসাহে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে হাঁস, লুঙ্গি ও ফুটবলসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন। ঢাকা থেকে ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসা ব্যবসায়ী এখলাস উদ্দিন মাসুদ বলেন, “পরিবার নিয়ে অনেকদিন পর এমন একটি সুন্দর আয়োজন উপভোগ করলাম। গ্রামের মানুষ একসঙ্গে হলে যে আনন্দ তৈরি হয়, তা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।”

খেলা দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ূম বলেন, “ছোটবেলায় গ্রামে এমন অনেক খেলা দেখেছি। এখন সেগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে। আজকের আয়োজন দেখে পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরে এসেছে।” স্থানীয় তরুণ শাহ আলম বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল ও ইন্টারনেট নিয়ে বেশি ব্যস্ত। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

আয়োজকদের একজন বেলাল হুসাইন জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আমরা এ আয়োজন করেছি।” আরেক আয়োজক এস এম রায়হান বলেন, “একসময় হাঁস ধরা খেলা গ্রামবাংলার জনপ্রিয় বিনোদনের অংশ ছিল। আমরা চাই এই হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি আবারও মানুষের মাঝে ফিরে আসুক।”

নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুছলেহ উদ্দিন বলেন, এই ধরনের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি মানুষকে একত্রিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহও বাড়ায়।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews