বিশ্বজুড়ে ওষুধের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করে নতুন এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আমদানিকৃত পেটেন্ট ওষুধের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। 

বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই আদেশের মাধ্যমে মূলত ওষুধ কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং বিশেষ মূল্য নির্ধারণ চুক্তিতে আসতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

নতুন এই আদেশ অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি 'মোস্ট ফেভার্ড নেশন' নীতি মেনে মূল্য নির্ধারণ চুক্তিতে সই করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয়ভাবে উৎপাদন কারখানা গড়ে তুলবে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক কার্যকর হবে না। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে এখনো মূল্য নির্ধারণের চুক্তি হয়নি কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রকল্প তৈরির কাজ চালাচ্ছে, তাদের শুরুতে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। পরবর্তী চার বছরের মধ্যে এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ১০০ শতাংশে উন্নীত করার সংস্থান রাখা হয়েছে এই আদেশে। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বড় কোম্পানিগুলো আলোচনার জন্য ১২০ দিন এবং মাঝারি ও ছোট কোম্পানিগুলো ১৮০ দিন সময় পাবে। তবে কোন কোন ওষুধ এই উচ্চ শুল্কের আওতায় পড়বে, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এই আদেশে দাবি করেছেন, ওষুধের জন্য বিদেশের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই এমন কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন। এর আগে তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’-এর প্রথম বার্ষিকীতে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, গত বছর লিবারেশন ডে-তে প্রায় সব ধরনের আমদানির ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব বাজারে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন তিনি, যদিও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশনার কিছু অংশ বাতিল করে দেয়।

এদিকে ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওষুধ শিল্পের নেতারা ও চিকিৎসাবিষয়ক সংগঠনগুলো। ফার্মাসিউটিক্যাল ট্রেড গ্রুপ ‘ফার্মা’-এর সিইও স্টেফিন জে সতর্ক করে বলেছেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ওপর এ ধরনের কর মূলত সাধারণ মানুষের খরচ বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ খাতে বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের সঙ্গে কোম্পানিগুলোর সমঝোতা না হলে বিশ্বজুড়ে ওষুধের দামে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

বিডি প্রতিদিন/নাজমুল



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews