নিখুঁত অভিনয় এবং চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য বলিউডে বরাবরই প্রশংসিত জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। এবার তার আগামী ছবি ‘গভর্নর’-এ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) এমন এক গভর্নরের চরিত্রে তিনি অভিনয় করছেন, যার শিকড় তামিল সংস্কৃতিতে। এই বিশেষ চরিত্রের ভাষা, বাচনভঙ্গি এবং উচ্চারণ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তাকে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতার কথাই সম্প্রতি ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেতা। 

মুম্বাইয়ে ছবির প্রচারণামূলক এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজ জানান, যেকোনো চরিত্রের ভাষা ও উচ্চারণের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সতর্ক থাকেন এবং চরিত্রের গভীরতা বজায় রাখতে যতটা সম্ভব পরিমিত উচ্চারণশৈলী ব্যবহার করার চেষ্টা করেন।

তামিল ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার হিন্দি উচ্চারণ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে নিজের নার্ভাসনেসের কথা স্বীকার করে মনোজ বাজপেয়ী বলেন, চরিত্রের ভাষা ও উচ্চারণ নিয়ে কাজ করার সময় আমি বেশ ভয়ে ছিলাম। আমার মতো অভিনেতারা ভাষা নিয়ে কোনো ভুল করা একেবারেই পছন্দ করেন না। আমি নিজে বিহারের মানুষ, তাই হিন্দি ভাষা ভুলভাবে বললে কতটা খারাপ লাগে তা আমি জানি। যেহেতু ছবিটি মূলত হিন্দিতে তৈরি, তাই আমি সব সময়ই চেয়েছি চরিত্রের মুখের ভাষার আঞ্চলিক টান যেন খুব স্বাভাবিক ও পরিমিত থাকে। অতিরিক্ত উচ্চারণের বাড়াবাড়ি অনেকসময় মূল গল্প থেকে দর্শকের মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয়। সেই কারণে আমরা খুব মেপে মেপে কাজ করেছি, যাতে শুধু মুখের বুলি নয়, বরং ভাষার ভেতরের সংস্কৃতিটা ফুটে ওঠে।

চরিত্রভেদে ভাষার টান কীভাবে বদলে যায়, তা বোঝাতে গিয়ে মনোজ তার ক্যারিয়ারের কালজয়ী ছবি ‘সত্যা’ এবং ‘আলীগড়’-এর উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি জানান, একই সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা দুটি চরিত্রের সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী কথা বলার ধরন আলাদা হতে বাধ্য। মুম্বইয়ের উচ্চবিত্ত বা উচ্চশিক্ষিত মানুষের হিন্দি আর সাধারণ বা প্রান্তিক মানুষের হিন্দির সুর কখনোই এক হয় না। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ‘আলীগড়’ ছবির প্রফেসর সিরস ছিলেন একজন সাহিত্যের মানুষ ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব, তাই তার হিন্দির সুর ছিল একেবারেই আলাদা। একইভাবে ‘ভোঁসলে’ ছবির চরিত্রের জন্যও পর্দার আড়ালে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। মনোজের স্পষ্ট কথা, পর্দায় যা দেখা যায় তা কোনো ইনস্টাগ্রামের ছবি নয় যে সহজেই সাজিয়ে ফেলা যাবে, এর পেছনে থাকে কঠোর অনুশীলন।

উল্লেখ্য, ‘গভর্নর’ ছবিটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে, যা ১৯৯০-এর দশকের ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটকে সামনে নিয়ে আসবে। ছবির টিজারে ইতোমধ্যে মনোজ বাজপেয়ীকে এক দৃঢ়চেতা আরবিআই গভর্নরের ভূমিকায় দেখা গেছে। চলচ্চিত্র মহল সূত্রে খবর, ছবিটি মূলত এস ভেঙ্কটরামননের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত, যিনি ১৯৯১ সালের তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সানশাইন পিকচার্স নিবেদিত এবং বিপুল অমৃতলাল শাহ প্রযোজিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন চিন্ময় মাণ্ডলেকর। শুভেন্দু ভট্টাচার্য, সৌরভ ভারত, রবি আসরানি এবং বিপুল অমৃতলাল শাহের যৌথ লেখনীতে সমৃদ্ধ এই ছবিটির গান লিখেছেন প্রখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতার এবং সুর দিয়েছেন অমিত ত্রিবেদী। আগামী ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই পলিটিক্যাল-ইকোনমিক ড্রামা ‘গভর্নর’।

সূত্র: মিড-ডে

বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews