ডেটা এনালাইটিক সলিউশন ইন বাংলাদেশ (ডাসিব) প্রতিষ্ঠান পরিচালিত ১৮ থেকে ৩০ বছরের তরুণ ভোটারদের উপরে করা জরিপ, সাম্প্রতিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত কিছু জরিপ, এবং নির্বাচনের সামগ্রিক বিষয়ের উপর আমার নিজের অবজারভেশনাল এসটিমেট মিলিয়ে ত্রয়োদশ ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য যে ফলাফল হতে পারে তার একটি ব্যক্তিগত প্রেডিকশন করেছি| এই প্রেডিশনের অ্যাজামসনগুলো মোটা দাগে হলো:

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ জাতীয় নির্বাচন প্রেডিকশন

বিএনপি জোট: ২০৫ - ২২০ আসন (প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৯%)

জামায়েত-এনসিপি জোট: ৬০ - ৭০ আসন (প্রাপ্ত ভোটের হার ৩৯%)

অন্যান্য: ৩৫ - ১০ আসন (প্রাপ্ত ভোটের হার ১২%)

ভোটার টার্ন আউট: ৫৮% (আদর্শ ভোটের প্রত্যাশিত ৭৫% হতে ১৭% কম হবে)

ধরে নেওয়া হয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিবেশ বজায় থাকবে, তরুণ সুইং ভোটারের এবং ট্রানজিসন (আওয়ামীলীগের বিদ্যমান ভোট পরিবর্তিত হয়ে) ভোটের হার অপরিবর্তিত থাকবে| এই প্রেডিকশন বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে প্রভাবিত করবার জন্য তৈরি করা হয়নি। ফলাফল ৫% তারতম্য হতে পারে|

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ জাতীয় নির্বাচন প্রেডিকশন কেমন ছিল?

বিএনপি জোট: ২০৫ - ২২০ আসন (আসল ২১৬)

জামায়েত-এনসিপি জোট: ৬০ - ৭০ আসন (আসল ৭৬)

অন্যান্য: ৩৫ - ১০ আসন (আসল ৭)

ভোটার টার্ন আউট: ৫৮% (আসল ৫৯%)

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ জাতীয় নির্বাচন প্রেডিকশন ম্যাথডোলজি

প্রেডিকশন:

বিএনপি জোট: ২০৫ - ২২০ আসন (প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৯%)

জামায়েত-এনসিপি জোট: ৬০ - ৭০ আসন (প্রাপ্ত ভোটের হার ৩৯%)

অন্যান্য: ৩৫ - ১০ আসন (প্রাপ্ত ভোটের হার ১২%)

ভোটার টার্ন আউট: ৫৮% (আদর্শ ভোটের প্রত্যাশিত ৭৫% হতে ১৭% কম হবে)

ম্যাথডোলজি:

যেকোনো প্রেডিকশনের ক্ষেত্রে, তার সাথে যুক্ত অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের, বা তাদের আন্ত-সম্পর্কের যোগসূত্রটা ভালো করে বুঝতে পারলেই প্রেডিকশনটি সহজ হয়| এই ক্ষেত্রে প্রেডিকশন এর আনসারটেনিটি বা অনিশ্চয়তার মাত্রা বেশি হলে সাধারণত প্রেডিকশনের পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে| কোন নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটের আসন সংখ্যা প্রেডিকশন অথবা যেকোনো রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে প্রেডিকশন শুধুমাত্র কোয়ান্টিটেটিভ বিশ্লেষণ দিয়ে করাটা অনেক সময় কঠিন হয়| এসব ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর গুলার মধ্যকার কমপ্লেক্স সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় কোয়ান্টিটেটিভ এর পাশাপাশি কোয়ালিটেটিভ বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়| আমার এই প্রেডিকশনটির ক্ষেত্রে এই দুই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল|

যে প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, সেখানে দুইটি বড় ফ্যাক্টর নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করতে পারে ধরা হয়েছিল| একটি হলো তরুণ ভোটাররা যেখানে জিএনজি এর একটি বড় অংশ, দ্বিতীয়টি হলো আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোট| এই দুটি বিষয় আরো ভালো করে বোঝার জন্য কোয়ান্টিটেটিভ এর আওতায় একটি জরিপ চালানো হয়েছিল ডেটা এনালাইটিক সলিউশন ইন বাংলাদেশ (ডাসিব) প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে| সেখানে ১৮ থেকে ৩০ বছরের তরুণ ভোটারদের উপরে জরিপ করে তারা কোন জোটকে ভোট দিতে চায়, কত শতাংশ ভোট দিতে যাবে না এবং তাদের এই উত্তরের দৃঢ়তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল পুরো জরিপের ফলাফল ডাসিবের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় ১১ নভেম্বর)| সেখান থেকে যে উত্তর এসেছিল, সেটাকে ব্যবহার করে সারা বাংলাদেশে তরুণ ভোটাররা কোন জোটকে কতটুকু ভোট দিতে পারে সেটা এস্টিমেট করা হয়েছিল| এটাকে ভিত্তি ধরে আবার অন্যান্য বয়স গ্রুপেও সেটা কেমন হতে পারে তা এস্টিমেট করা হয়েছিল| এভাবে কোন জোট কত শতাংশ ভোট পেতে পারে তা বের করা হয়েছিল|

জরিপ থেকে উঠে আসা তরুণদের ভোট না দেওয়ার হার এবং সেই সাথে আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৫০ শতাংশ ভোট দিতে যাবে না ধরে নিয়ে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কত শতাংশ ভোট দিতে যেতে পারে, সেটা বের করা হয়েছিল| যেটি বের হয়েছিল ১৭ শতাংশ| এক্ষেত্রে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, কত শতাংশ ভোটার ভোট দিতে পারতো সেটিও বাংলাদেশের অতীত নির্বাচন এর ইতিহাস থেকে নেয়া হয়েছিল, যেটি পাওয়া গিয়েছিল ৭৫ শতাংশ| আবার এই ৭৫ শতাংশ থেকে আগের ১৭ শতাংশ বাদ দিয়ে টার্ন আউট ৫৮ শতাংশ এস্টিমেট করা হয়েছিল|  

কোয়ালিটেটিভ গবেষণার আওতায় কোন জোট কয়টি আসন পেতে পারে সেটি বোঝার জন্য সাম্প্রতিক চার-পাঁচটি জরিপের ফলাফল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল| এক্ষেত্রে জরিপগুলোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, ত্রুটি-বিচ্যুতি যাচাই-বাছাই করে প্রতিটা জোট কেমন করতে পারে, কয়টি আসন পেতে পারে সেটি বের করা হয়েছিল| এরপর কোয়ান্টিটেটিভ বিশ্লেষণ হতে প্রাপ্ত প্রতিটি জোটের ভোটের হারকে আবারো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি জোটের আসন সংখ্যা চূড়ান্ত করা হয়|

এই প্রেডিকশনের অ্যাজামসনগুলো মোটা দাগে যা যা ধরা হয়েছিল: ধরে নেওয়া হয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিবেশ বজায় থাকবে, তরুণ সুইং ভোটারের এবং ট্রানজিসন (আওয়ামীলীগের বিদ্যমান ভোট পরিবর্তিত হয়ে) ভোটের হার অপরিবর্তিত থাকবে| ফলাফল ৫% তারতম্য হতে পারে ধরে নেওয়া হয়েছিল|

লেখক :  অধ্যাপক, ফলিত পরিসংখ্যান, পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচআর/জেআইএম



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews