ইফতেখারুজ্জামান: গণ-অভ্যুত্থানের পর মূলত তিনটি এজেন্ডা সামনে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল—বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন। এর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। জুলাই আন্দোলন যখন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তখন মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হবে।

শুরুর দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে অবশ্যই ইতিবাচক বলতে হবে। প্রথমে ছয়টি এবং পরে আরও পাঁচটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এটি ছিল একটি সুচিন্তিত উদ্যোগ। তবে শুরু থেকেই কিছু প্রশ্নও ছিল, কমিশন গঠন নিয়েও বিতর্ক ছিল। বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব ছিল না। নারীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল খুবই সীমিত, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বও ছিল নগণ্য।

প্রথম ছয়টি কমিশন সরাসরি রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। পরে আরও পাঁচটি কমিশন যুক্ত করা হয়; কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে আর কোনগুলো বাদ পড়বে—সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ছিল। যেমন শিক্ষা খাত ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রেক্ষাপট, অথচ শিক্ষা নিয়ে কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। আবার ব্যবসা-বাণিজ্য, যা স্বৈরশাসনের সময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, সেটিও গুরুত্ব পায়নি।

তার পরও আমি মনে করি, রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সার্বিক সূচনা হিসেবে এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখতে হবে। কমিশনগুলোর কাজও মোটের ওপর ভালো হয়েছে। প্রতিটি কমিশনের প্রতিবেদনে বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও মূল্যবান সুপারিশ রয়েছে। অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জরিপ পরিচালিত হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য একটি শক্তিশালী নীতিগত ও দালিলিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews