বিশ্ববাণিজ্যে বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে নতুন নীতিমালা চালু করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে দেশের বাণিজ্যিক অর্থায়ন ব্যবস্থা আধুনিক হবে এবং বৈশ্বিক চর্চার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, নতুন কাঠামোর ফলে আমদানি ও রপ্তানিকারক এবং ব্যাংকগুলো বিশ্ববাণিজ্য পরিচালনায় নমনীয়তার সুবিধা পাবে। নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এলসি এখনো গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাশাপাশি ওপেন অ্যাকাউন্ট ট্রেড, সাপ্লাই চেইন ফিন্যান্স এবং ফ্যাক্টারিংয়ের মতো বিকল্প অর্থায়ন পদ্ধতির ব্যবহারও বাড়ছে। নতুন নির্দেশনা দেশেও এসব ব্যবস্থার ক্রম সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে নানা ধরনের বাণিজ্য-অর্থায়ন সুবিধা পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমদানি ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো ব্যাংকের রিপেমেন্ট গ্যারান্টি থাকলে ব্যাংকগুলো যেকোনো পরিমাণ অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করতে পারবে। গ্যারান্টি না থাকলেও ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অগ্রিম অর্থ পরিশোধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা হিসাবের অর্থ ব্যবহার করে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা যাবে। নির্ধারিত সীমার বেশি জরুরি অর্থ প্রদানের আবেদনগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেসভিত্তিক পর্যালোচনা করবে। নতুন নীতিমালা রপ্তানিকারকদের জন্যও বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করবে। রপ্তানি আয় দেশে আনার বিদ্যমান বিধি মেনেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ওপেন অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট ব্যবস্থার আওতায় পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বাণিজ্যিকপ্রথা অনুসরণ করে, ডকুমেন্টস অ্যাগেইনস্ট পেমেন্ট এবং ডকুমেন্টস অ্যাগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স পদ্ধতি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিকাঠামোর প্রধান লক্ষ্য সাপ্লাই চেইন ফিন্যান্স ব্যবস্থার উন্নয়ন। বৈশ্বিক বাণিজ্যে যা খুব গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন মাধ্যম হিসেবে গণ্য হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো প্রকৃত বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে বিভিন্ন অর্থায়ন পণ্যও চালু করতে পারবে। বাণিজ্য অর্থায়নে ডিজিলাইজেশন বৃদ্ধির দিকেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা নিশ্চিতভাবেই ব্যবসার তারল্য বৃদ্ধি, বাণিজ্য ব্যয় হ্রাস এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হোক-এটাই কাম্য।