সভাপতির বক্তব্যে রেহমান সোবহান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অবাধ আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিশাল সুযোগ রয়েছে।
“কিন্তু এই অঞ্চলের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য প্রবাহে পারস্পরিক আস্থাহীনতার কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।”
তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল শুল্ক ও অশুল্ক বাধা।
এসব বাধা দূর করে এক দেশ অন্য দেশে বিনিয়োগ এবং সীমান্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করতে পারলে ‘আসিয়ান’ এর মত এ অঞ্চলও শক্তিশালী একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে রেহমান সোবহানের বিশ্বাস।
প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, মুক্তবাণিজ্যের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সমৃদ্ধির জন্য সকল দেশকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সকল দেশের সুবিধা হয়, তেমন নীতি গ্রহণ করতে হবে।
“প্রত্যেকটি দেশের অর্থনীতির একটা নিজস্ব দিক থাকে। সংশ্লিষ্ট দেশটির জন্য সেই সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সেজন্য এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক করতে হবে। সকল দেশের রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করে সবার সুবিধা নিশ্চিত হয় এই রকম কৌশল বের করতে হবে।”
তিনি বলেন, এক দেশের পরিবহণ যাতে অবাধে অন্য দেশে যেতে পারে, এক দেশের শ্রমিক যাতে অন্য দেশে কাজ করার সুযোগ পায় এবং অবাধ সীমান্ত নিশ্চিত হয়, সেজন্য সব ব্যবস্থা করতে হবে।
“এভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আসিয়ান বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গড়ে তোলা যায়,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা এই অর্থনীতিবিদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করতে ভারতকেই এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি টেকসই উন্নয়নের (এসডিজি) লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।
২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি পূরণ করতে হলে পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়নে ব্যাপক বিনিয়োগ দরকার বলেও মত দেন তিনি।