একটানা পতনে অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের পুঁজিবাজার। চলতি সপ্তাহের তিনদিনেই পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়েছে। বিক্রির চাপে কম্পানির শেয়ার দাম কমছে। কি কারণে বাজারে পতন ঘটছে সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন সংশ্লিষ্টরা। কারণ চিহ্নিত করতে বিকালে জরুরি বৈঠক ডেকেছে সংশ্লিষ্টরা।

আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় শুরু হয়েছে জরুরি বৈঠক।

ডিএসই সূত্র জানায়, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাজারের পতন নিয়ে আলোচনা করে কারণ খুঁজে বের করা হবে। সাড়ে চারটায় সেই বিষয়ে সাংবাদিককের ব্রিফ করবেন তারা। সভায় ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, লিস্টেড কম্পানি অ্যাসোসিয়েশন, লিজিং কম্পানি অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিত থাকবেন।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, টালমাটাল আর অস্থিরতার মুখে চলতি মাসের প্রথম আট দিনে মুলধন কমেছে আট হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিনই এক হাজার কোটি টাকা করে মুলধন বেরিয়েছে। তবে রবি ও সোমবার পুঁজিবাজারে বড় পতন হওয়ায় বাজার মুলধন কমে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দৃশ্যমান কোনো কারণ না থাকলেও বাজার একেবারেই তলানীতে। এই বিপর্যস্থ অবস্থা নিয়ে তারা শঙ্কিত। কেন বাজার পড়ে যাচ্ছে সে বিষয়টি এখনই বলতে পারছে না তারা।  চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে ব্যাংকের ঋণ-আমানত হ্রাস (এডিআর), রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ভয় আর কৌশলগত অংশীদার নিয়ে বিদেশি দুই প্রতিষ্ঠানে লড়াইয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বিনিয়োগকারী।

তারা বলছেন, এডিআর কমানোয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাবের প্রেক্ষিতে ঘাটতি সমন্বয়ে সময় ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে সমন্বয়ের ঘোষণা প্রথমে আসলেও পরবর্তীতে ৩১ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থিতিশীলতার শঙ্কায় বাজারে প্রভাব পড়েছিল। এখন সেই শঙ্কা নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল। আর কৌশলগত অংশীদার বাঁছাইয়ে জটিলতাও কমেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কৌশলগত অংশীদার বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। কাজেই দৃশ্যমান শঙ্কার কোনো বিষয় নেই। তবুও বাজার কমছেই।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছে, একটি চক্র কারসাজি করে বাজারকে প্রভাবিত করছে। তারা শেয়ার বিক্রি করে করে পর্যবেক্ষণ করছে। শেয়ারের দাম কমলে সেই শেয়ার কিনে বাড়তি মুনাফা পেতে চায়। কৌশলগত অংশীদার বাঁছাইয়ে চিনা প্রতিষ্ঠানকেই পেতে একটি চক্র সুপরিকল্পিতভাবে বাজারকে প্রভাবিত করছে। কারণ চিনা প্রতিষ্ঠান অংশীদার হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যরা বড় অংশের অর্থ পাবেন। 

ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে প্রভাব পড়ার মতো দৃশ্যমান কোনো কারণ এখন নেই। এর আগে যেসব কারণ ছিল, সেগুলো সমাধান হয়েছে। তবে কেন বাজারে প্রভাব পড়ছে সেটি চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক হবে। সব স্টেক হোল্ডারদের মতামত ও সভার পর বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews