মহাবিশ্বকে দেখার পাশাপাশি এবার শোনার সুযোগ করে দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মহাকাশের নানা তথ্য ও চিত্রকে সুর ও শব্দে রূপান্তর করে তারা তৈরি করেছে এক অভিনব সংগীতধর্মী অভিজ্ঞতা। এই পদ্ধতির নাম সনিফিকেশন (Sonification—তথ্যকে শব্দে রূপান্তর করা)। এর মাধ্যমে মানুষ চোখে না দেখেও কানে শুনে তারকা ও গ্যালাক্সির তথ্য অনুভব করতে পারে।
নাসা জানায়, তাদের চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি এবং জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে সংগৃহীত বাস্তব তথ্য ব্যবহার করে দুটি নতুন অর্কেস্ট্রাল সংগীত তৈরি করা হয়েছে। এতে তারার জন্ম, বিকাশ ও পরিবর্তনের পুরো জীবনচক্র সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। নাসার ভাষায়, ‘এই সংগীত আক্ষরিক অর্থেই তারাদের তৈরি।’
নাসা প্রথম এই প্রকল্পের কথা জানায় ২০২৩ সালে। তখন তারা ব্যাখ্যা করে, কীভাবে মহাকাশের তথ্যকে সুরে রূপ দেওয়া হয়। যেমন—উজ্জ্বলতা বোঝাতে শব্দের ভলিউম (জোর) বাড়ানো হয়, আবার রঙ বা অবস্থানের ওপর নির্ভর করে সুরের উচ্চতা (পিচ) নির্ধারণ করা হয়।
এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সংগীতকার সোফি ক্যাস্টনার বলেন, এটি বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এক ধরনের সৃজনশীল গল্প। মহাকাশের তথ্যকে শব্দে রূপ দিয়ে সেখানে মানুষের অনুভূতির ছোঁয়া যোগ করা হয়েছে।
নাসা জানায়, ক্র্যাব নেবুলা (একটি সুপারনোভা অবশিষ্টাংশ) থেকে পাওয়া শব্দে দ্রুত ঘূর্ণায়মান পালসার, শক্তিশালী জেট এবং ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের প্রতিফলন পাওয়া যায়। অন্যদিকে পিলারস অব ক্রিয়েশন (তারার জন্মস্থান) অংশে শোনা যায় নরম সুর, ঘূর্ণায়মান ছন্দ এবং নতুন তারকা গঠনের ইঙ্গিত।
এই সনিফিকেশন প্রকল্প বিশেষভাবে অন্ধ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য মহাবিশ্ব বোঝার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। ছবি নয়, শব্দের মাধ্যমে তারা এখন মহাকাশের বিস্ময় অনুভব করতে পারছেন।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল