কুর্দি জাতীয়তাবাদের সূচনা উনিশ শতকের শেষভাগে। গত এক শতাব্দীতে ব্রিটেন থেকে শুরু করে পরে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন পরাশক্তি কুর্দিদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। কুর্দিদের অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম, তবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে ধর্মীয় সংখ্যালঘুও রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্বৈরশাসক ও সরকার কুর্দিদের ওপর কঠোর দমন–পীড়ন চালিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো সম্প্রদায়কেই উচ্ছেদ বা হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাইরের শক্তিগুলো প্রায়ই নিজেদের কৌশলগত সুবিধার জন্য কুর্দিদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। এতে কুর্দি সমাজের ভেতর বিভক্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তার মাশুল দিতে হয়েছে কুর্দিদেরই।
তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী ও কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই বামপন্থী সংগঠনটি প্রথমে একটি স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্রের জন্য লড়াই শুরু করলেও পরে স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং তুরস্কের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল থেকে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।