পাকিস্তানের সংগীতজগতের দুই মহারথী রাহাত ফতেহ আলী খান ও আতিফ আসলাম ভিন্ন প্রজন্মের হলেও জনপ্রিয়তার দিক থেকে দুজনই শীর্ষে। সুরের মূর্ছনায় তাঁদের খ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। লাইভ কনসার্টে তাঁদের কণ্ঠ শুনতে উপচে পড়েন অসংখ্য সংগীতপ্রেমী। তবে জানেন কি, একটি লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য এই দুই তারকা গায়ক কতটা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন?
পাকিস্তানে জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে গান পরিবেশন করতেও বেশ চাহিদা রয়েছে রাহাত ফতেহ আলী খান ও আতিফ আসলামের। সম্প্রতি পাকিস্তানি সাংবাদিক নাঈম হানিফ এই দুই শিল্পীর সম্ভাব্য পারফরম্যান্স ফি নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য রাহাত ফতেহ আলী খান নেন প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি। অন্য শহরে পারফর্ম করলে এই অঙ্ক আরও বেড়ে যায়, আর দেশের বাইরে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিলে পারিশ্রমিক প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, বিপিএল-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিপিএল মিউজিক ফেস্ট’-এ পারফর্ম করার জন্য রাহাত ফতেহ আলী খান বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে আতিফ আসলাম সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠানে গান গাইতে খুব একটা দেখা যায় না। তবে সাত বছর আগে পাকিস্তানের ধনকুবের মালিক রিয়াজ তাঁর নাতির বিয়েতে গান গাওয়ার জন্য আতিফকে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপির প্রস্তাব দেন। ধারণা করা হয়েছিল, তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করেন আতিফ। এরপর থেকে নাঈম হানিফের দাবি অনুযায়ী, প্রতি পারফরম্যান্সে আতিফ আসলাম বর্তমানে প্রায় ২ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে রাহাত ফতেহ আলী খান বলিউডে সুফি ও শাস্ত্রীয় ঘরানার বহু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। এর মধ্যে ‘জিয়া ধড়ক ধড়ক যায়ে’, ‘তেরো ওরে’, ‘তুম জো আয়ে’, ‘ও রে পিয়া’ ও ‘জাগ ঘুমেয়া’ গানগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর আতিফ আসলামের কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পাওয়া গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘ও লামহে ও বাতে’, ‘আদাত’, ‘তেরে বিন’, ‘তু জানে না’ ও ‘পেহলি দফা’।