বগুড়ার অন্যতম দুটি নদী যমুনা ও বাঙালি। নদী দুটিতে দেখা দিয়েছে নাব্যসংকট। যমুনার পানি কমে যাওয়ায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার নৌরুটগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও হাঁটু আবার কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত পানি। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনে তৈরি হয়েছে জটিলতা। যেখানে সামন্য পানি আছে সেখানেও ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে নৌকা। বাধ্য হয়ে অনেকে মালামাল মাথায় নিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। কেউ নদী পর করছেন ঘোড়ার গাড়িতে। একই অবস্থা বাঙালি নদীর। ১৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর কোনো কোনো স্থানে একেবাড়ে পানি নেই। উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ ও বর্ষায় তীর ভাঙনে তলদেশে পলি জমে কমেছে নাব্য। তিনটি উপজেলা শহরের বেশির ভাব স্থানে পয়োনিষ্কাশন হচ্ছে এ নদীতে। ফলে কালচে রং ধারণ করেছে পানি।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীর নাব্য ফেরাতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনায় শুরু হবে ড্রেজিং। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর স্থাপনের কাজ চলমান। নৌবন্দর হলে সারা বছর নৌপথ ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকবে। এর মাধ্যমে কৃত্রিম নৌপথ সৃষ্টি করলে সমস্যার সমাধান হবে। জানা যায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদী ধীরে ধীরে গতিপথ পরিবর্তন করছে। মূল প্রবাহ সরে যাওয়ায় জাগছে নতুন নতুন চর। সাধারণত বর্ষাকালে যমুনা কানায় কানায় ভরে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। দেখা দেয় বন্যা। চলতি বছর সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। উপজেলায় কোনো বন্যাও হয়নি। ফলে পানি একেবারে তলানিতে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত মাঝিদের নৌকা আটকে যাচ্ছে। নদী পারাপারে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। উপজেলার ব্যস্ততম নৌরুট সারিয়াকান্দি এবং মাদারগঞ্জ। এ রুটের কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল চর সৃষ্টি হয়েছে। মাঝিদের দেওয়া টাকায় চর কেটে ড্রেনের মতো করা হয়েছে। সেই পথ দিয়ে কষ্টে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা চলাচল করছে। পারতিতপরল গ্রামের আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া, নিজবলাই, দিঘাপাড়া, চারালকান্দি খেয়াঘাটসহ বেশকিছু খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর বেশির ভাগজুড়ে ধু-ধু বালুচর।
পারতিতপরল এলাকায় দেখা যায়, কেউ ঘোড়ার গাড়িতে বেশি ভাড়ায় অবার কেউ মাথায় করে কৃষিপণ্য পরিবহন করছে। উপজেলার কৃষিপণ্যের অর্ধেকের বেশি হয় যমুনার চরাঞ্চলে। এসব ফসল পরিবহনে কৃষকের বাড়তি খরচ হচ্ছে। আলতাফ আলী খেয়াঘাটের মাঝি রমজান আলী জানান, যমুনার নাব্য সংকটে তার খেয়াঘাট কয়েক মাস ধরে বন্ধ। এ রুটে কোনো নৌকা
চলাচল করছে না। এ ছাড়া ডুবোচরে নৌকা আটকে যাওয়া নিত্যদিনের ঘটনা। তার উপার্জন এখন একেবারে বন্ধ।