তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জোট সরকার বা কোয়ালিশন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে বিজয় নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ।
টিভিকে-এর প্রধান কার্যালয়ে এখন উৎসবের আমেজ। সব অনিশ্চয়তা ও সংখ্যাতত্ত্বের যে ভীতিকর সমীকরণ চলছিল, অবশেষে তার ইতি ঘটল। এ সপ্তাহের শুরুতে এক দুর্দান্ত নির্বাচনী ফলাফলের চমক দিয়েও, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে আটকে গিয়েছিলেন সুপারস্টার বিজয়।
অবশেষে সেই সংকট কাটল। তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জোট সরকার বা কোয়ালিশন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে বিজয় নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ।
বিদুথালাই চিরুতাইগাল কাচি বা ভিসিকে (VCK) শেষ পর্যন্ত তামিঝাগা ভেট্রি কঝগমের (টিভিকে) কাছে তাদের আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র হস্তান্তর করেছে।
তাদের সমর্থন মেলায় টিভিকে নেতৃত্বাধীন এই জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮ জনে, যা রাজ্য বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার বা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমান।
এনডিটিভি হাতে পাওয়া ভিসিকের সেই সমর্থনপত্রে বলা হয়েছে যে, তামিলনাড়ুর জনগণকে একটি স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক সরকার উপহার দিতেই তারা বিজয়কে সমর্থন করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জোটের হিসাবনিকাশ
ভিসিকের সমর্থন টিভিকে-র ঘরে অত্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন যোগ করেছে। এর আগে বিজয়ের জোটের কাছে কংগ্রেসের পাঁচ জন এবং বামপন্থী দলগুলোর চার জনসহ মোট ১১৬ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন ছিল।
ভিসিকের ওই দুই আসন যোগ হওয়ায় এই সংখ্যাটি এখন ১১৮-এ পৌঁছেছে, যা তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য একদম প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যা।
যদিও বামপন্থী দলগুলো বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছে, কংগ্রেস কিছু শর্ত দিয়ে তাদের সমর্থন জানিয়েছিল। সূত্রমতে, বামপন্থী দলগুলো মন্ত্রিসভায় যোগ না দিলেও, কংগ্রেস অন্তত দুটি মন্ত্রিত্বের দাবি করেছে।
পাশাপাশি এমনও জল্পনা রয়েছে যে, বিরোধী দল এআইএডিএমকে-র (AIADMK) তিন জন বিধায়কও হয়তো বিদ্রোহ করে টিভিকে-তে যোগ দিতে পারেন।
বিপর্যয় ও ধোঁয়াশার সময়কাল
এর আগে গত বুধবার থেকে লোকভবনে দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও, বিজয় রাজ্যপাল আর ভি আর্লেকরকে তার প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারছিলেন না। গভর্নরের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অকাট্য প্রমাণ ছাড়া তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব নয়। রাজ্যপাল বারবার ১১৮ জন বিধায়কের সই করা সমর্থনপত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন।
সব কিছুর কেন্দ্রে যে দলটিকে নিয়ে সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, সেটি হলো ভিসিকে। দলটির নেতারা একেক সময় একেক রকম বার্তা দিচ্ছিলেন, যা কোনো পরিষ্কার ধারণা দিচ্ছিল না। আর এ কারণেই বিজয়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ও স্বপ্নের মুহূর্তটি যেন মাঝপথে আটকে গিয়েছিল।
নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান: টিভিকে
তবে সব ছাপিয়ে বিজয়ের টিভিকে-ই হলো এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক। মাত্র দুই বছর আগে গড়ে ওঠা এই দলটি সাম্প্রতিক ভোটে ১০৮টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
টিভিকে-এর এই অবিশ্বাস্য উত্থানের ফলে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মতো দলগুলো, যারা ৬২ বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজ্য শাসন করছিল, তাদের দীর্ঘকালীন আধিপত্যের অবসান ঘটল।
নিজে দুটি আসন থেকে জয়ী হলেও, নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়ায় এই মুহূর্তে বিজয়ের দলের মোট ১০৭ জন বিধায়ক রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে বিদায়ী ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে মাত্র ৪৭টি আসন পেয়েছে। এছাড়া কংগ্রেস পাঁচটি এবং পিএমকে চারটি আসন জিতেছে।
ভিসিকে, আইইউএমএল, সিপিআই ও সিপিএম—এরা প্রত্যেকেই দুটি করে আসন লাভ করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি, ডিএমডিকে এবং এএমএমকে প্রত্যেকেই পেয়েছে একটি করে আসন।