কর্মজীবনে গবেষণা পেশায় যুক্ত আছি। বলা যায়, এটি মূলত একটি বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ার। আমার মতে, নিরিবিলি কর্মপরিবেশে সৃজনশীল কাজ করতে চাইলে গবেষণাধর্মী কাজের চেয়ে সর্বোত্তম পন্থা আর নেই। নিত্যনতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই পেশার দ্বারা অতি সহজে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে পরিচিত করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনের পাল্লাকে ভারী করা যায়। যে গবেষকের উদ্ভাবনের পরিধি যত বেশি বিশ্বব্যাপী তার চাহিদা তত বেশি। একারণে উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক স্তর থেকে হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান শিক্ষায় মূলত গবেষণার হাতে খড়ি শুরু হয় মাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান বিভাগ হতে। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গবেষণার পরিধি বেশ বিস্তৃত হয়ে শিক্ষার্থীর লব্ধ জ্ঞানের সীমানাকে আরও বেশি পাকাপোক্ত করে। দেশে কিংবা দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে গবেষণার দক্ষতা যে বহুগুণে বৃদ্ধি পায় সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। গবেষণায় আমরা বরাবরই চীন, জাপান, ইউরোপ, আমেরিকার থেকে বহুগুণে পিছিয়ে। গবেষণায় যথেষ্ট বরাদ্দ না থাকা এবং গবেষকদের যথেষ্ট পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ায় গবেষকরা তাদের পেশাকে সেভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। এছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি শিক্ষকদের মৌলিক গবেষণা থেকে অনেকটা দূরে ঠেলে দিয়েছে। তবে আজকের কলামে গবেষকদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে করণীয় কিংবা এই পেশায় পাকাপোক্ত হয়ে ওঠার নানাবিধ বিষয়ের দিকে না গিয়ে একটু ভিন্ন বিষয় তুলে ধরব।

গবেষণায় বরাদ্দ প্রয়োজন মূলত রাসায়নিক দ্রব্যাদি ক্রয় এবং উদ্ভাবন পরবর্তী উদ্ভাবিত পণ্যের রাসায়নিক বিশ্লেষণ তথা ক্যারেক্টারাইজেশনের জন্য। একারণে দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন স্তরে প্রচুর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয়। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও বহুল পরিমাণে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয় তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা ও ডায়িং শিল্পে, চামড়া কিংবা ট্যানারি শিল্পে, সার কারখানায়, খাদ্য শিল্পে, কৃষিকাজে, কসমেটিক ও প্রসাধনী শিল্পে, সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া দেশের সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রচুর রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহৃত হয়। পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দাসংস্থার ফরেনসিক ল্যাবসমূহে রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া যত্রতত্র অননুমোদিতভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ বিভিন্ন ভেজাল খাদ্য, প্রসাধনী কারখানায় দেদারছে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয়। প্রতি বছর কী পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহৃত হয় তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন। এই রাসায়নিক দ্রব্যাদির অধিকাংশই বাইরের দেশ হতে আমদানি করা হয়, যার মধ্যে অতি দাহ্য কেমিক্যালও অন্তর্ভুক্ত। তবে জানা যায় যে, দেশের মোট আমদানির একটি বড় অংশ রাসায়নিক দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল। নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও, এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ তার প্রয়োজনের অধিকাংশ রাসায়নিক দ্রব্যাদি আমদানি করে।

এই আমদানিতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা, দেশে উৎপাদন সম্ভব না হলে সেটি বাইরের দেশ থেকে আমদানি করাই যেতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই সকল রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার পরবর্তীতে সেগুলোর ডিস্পোজাল বা নিষ্পত্তি বা সুষ্ঠু বিন্যাস নিয়ে। রাসায়নিক দ্রব্যাদির সাথে ডিস্পোজালের বাংলা অর্থের চেয়ে ইংরেজি টার্মটাই ভালো যায় বলে মনে হয়। অর্থাৎ আমার উদ্বিগ্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদির ব্যবহার পরবর্তী সঠিক ডিস্পোজাল নিয়ে। এই পর্যন্ত আমার নজরে দেশের কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণাকালীন ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির ডিস্পোজাল প্রক্রিয়া আছে কিনা সেটা পড়েনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অনার্স এবং মাস্টার্স পড়াকালীন প্রচুর ল্যাব ওয়ার্ক করেছি। স্বভাবতই রসায়ন শাস্ত্রে বেশি ল্যাব ওয়ার্ক থাকে, তবে বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ে যে ল্যাব ওয়ার্ক থাকে না তেমনটা নয়। বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ে ল্যাব ওয়ার্কের বিকল্প নেই। আর এই ল্যাব ওয়ার্কে প্রচুর রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহৃত হয়। যেমন বলতে পারি, রসায়নের ল্যাব ওয়ার্কের হাতে খড়ি হয় এসিড-ক্ষারের টাইট্রেশানের মাধ্যমে। এখানে যদি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ওয়ার্কের কিছু চিত্র তুলে ধরি তাহলে এখনো মনে পড়ে আমরা টাইট্রেশানসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় এসিড-ক্ষার ব্যবহার করেছি। ব্যবহারের পরে সেগুলো ল্যাবের সরাসরি বেসিনে ফেলেছি। যে বেসিনগুলো থেকে সরাসরি এই এসিড-ক্ষার ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যম দিয়ে নদী বা জলাশয়ে মিশে গেছে। শুধু এসিড-ক্ষার নয়, বিভিন্ন ডাই (রঞ্জক পদার্থ), জারক-বিজারক, অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড, এলিফেটিক বা অ্যারোমেটিক যৌগ ইত্যাদি সবাই বেসিনে ফেলেছি এবং এখনো সেখানেই ফেলা হচ্ছে। এরপর সেগুলো জলাশয়ে গিয়ে মিশছে। দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্রও একই। কোথাও ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির সঠিক ডিস্পোজাল ব্যবস্থা আছে কিনা আমার অন্তত জানা নেই। একটি সহজ উদাহরণ দিলে এমন দাঁড়ায় যে, একজন গবেষক বিভিন্ন নদী কিংবা জলাশয়ের পানি নিয়ে সেখানে বিভিন্ন ক্ষতিকারক ভারী ধাতু বা দূষণের মাত্রা নির্ণয় করতে তিনি যে সকল রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করছেন সেগুলো সরাসরি বেসিনে ফেলার ফলে আবারো সেই নদী কিংবা জলাশয়ের পানিকে দূষিত করছে।

বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহৃত হয় অধিকাংশ শিল্প কারখানায়। যেমন: পোশাক এবং ডাইং শিল্পে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের রং (ডিসপার্স ডাই, রিয়্যাকটিভ ডাই), সহায়ক রাসায়নিক এবং ফিক্সিং এজেন্ট। এই রাসায়নিক দ্রব্যগুলো সুতা ও কাপড়ে রং করার জন্য এবং রঙের স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবহৃত ডাই-এর অধিকাংশই কারসেনোজেনিং। চামড়া বা ট্যানারি শিল্পে ব্যবহৃত প্রধান রাসায়নিকগুলির মধ্যে রয়েছে কিউরিং-এর জন্য সোডিয়াম ক্লোরাইড, ট্যানিং-এর জন্য ক্রোমিয়াম সালফেট, সোডিয়াম সালফাইড, অ্যামোনিয়া, জৈব অ্যামিন এবং বিভিন্ন রঞ্জক ও ফিনিশিং এজেন্ট। খাদ্য শিল্পে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে খাবারের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাদ, গঠন এবং রঙ উন্নত করা এবং পুষ্টিগুণ যোগ করা। প্রধান রাসায়নিকগুলির মধ্যে আছে সংরক্ষক (সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট), অ্যাসিড (সাইট্রিক অ্যাসিড, ভিনেগার) যা স্বাদ বাড়াতে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং রঙ ও স্বাদবর্ধক। এছাড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পুষ্টিগুণ যোগ করা এবং জীবাণুনাশক হিসেবেও রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। কসমেটিক ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে মোম, সারফ্যাক্ট্যান্ট (শ্যাম্পু বা ফেসওয়াশের মতো পরিষ্কারকগুলিতে ব্যবহৃত), ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ (যেমন ফেনোক্সিইথানল), রঞ্জক (জিঙ্ক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই অক্সাইড) এবং সক্রিয় উপাদান (ভিটামিন)। এ সকল রাসায়নিক দ্রব্যাদি পণ্যকে টেক্সচার, রঙ, সংরক্ষণ এবং কার্যকারিতা প্রদান করে। অর্থাৎ প্রত্যেক শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত এসব রাসায়নিক দ্রব্যাদি উৎপাদিত পণ্যের নির্দিষ্ট মানের উন্নতির উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহৃত হয়। রাসায়নিক দ্রব্যাদি বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু ঐ সকল শিল্প থেকে যেন দূষণের কোনো রকম স্প্রেডিং না হয় সেজন্য প্রতিটি শিল্প কারখানায় ইটিপি বা ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থাকে। একে তরল বর্জ্য শোধনাগার বা আরেকটু পরিষ্কার করে বললে পানি শোধনাগারও বলা যায়। মূলত পানিতে মিশে থাকা অবাঞ্ছিত উপাদানসমূহকে দূরীকরণের মাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয় এই ইটিপি প্লান্টে। শুধু তাই নয়, ইটিপির মাধ্যমে নদী কিংবা জলাশয়ের পানি দূষণ রোধ করা যেমন সম্ভব, তেমনি বিশুদ্ধ পানিও পাওয়া সম্ভব। সেই উদ্দেশ্যে ইটিপি স্থাপন করতেও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেসকল শিল্প কারখানা থেকে পরিবেশ দূষণ তথা পানি দূষণের আশঙ্কা আছে সেগুলো স্থাপনের প্রধান রিকোয়ারমেন্টের মধ্যে এই ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন বাধ্যতামূলক। ইটিপি স্থাপনের ক্ষেত্রে, নদী বা খালের মোহনায় যে জায়গা বা স্রোতের মাধ্যমে শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত দূষিত বর্জ্য পানি নদী বা খালে সহজে প্রবেশ করে, ঠিক সেই স্থানে এই প্লান্ট স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শিল্প কারখানার বর্জ্য ইটিপি দিয়ে পরিশোধনের পরে সেগুলো জলাশয়ে উন্মুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও সেগুলো মানা হয় কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হয় না। ফলে শিল্প কারখানা থেকে রাসায়নিক দ্রব্যাদির বর্জ্যের মাধ্যমে দেদারছে জলাশয় দূষণ হচ্ছে। বহু গবেষণায় এমনটা উঠে এসেছে যে, নদী-খাল দূষণের জন্য বেশি দায়ী হচ্ছে শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত বর্জ্য পানি। বিশেষ করে, কারখানার বর্জ্য পানি সরাসরি নদীতে ফেলা হয়। যে পানিতে থাকে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, জৈব সংক্রামক পদার্থ-ক্ষতিকর গ্যাসীয় কঠিন পদার্থ। যার ফলে নদী-খালের পানি বিষাক্ত হয়ে যেমন বিবর্ণ হচ্ছে, তেমনি জলজ উদ্ভিদসহ মাছ, পোকামাকড় ও অণুজীব বাসস্থান হারাচ্ছে। সোজা কথা ইকোসিস্টেমে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এছাড়াও এ পানি ব্যবহারে মানুষ ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে, পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণও করছে। তবে শিল্প-কারখানা থেকে রাসায়নিক দ্রব্যাদির ব্যবহার পরবর্তী সেগুলোর সঠিকভাবে ডিস্পোজাল না হওয়ায় যেমন অনেক বেশি দূষণ ছড়াচ্ছে, ঠিক তেমন দূষণ ছড়াচ্ছে দেশের হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গবেষণাগার থেকে নির্গত রাসায়নিক দ্রব্যাদির দ্বারা। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বহু পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্যাদির ব্যবহার হয়। এসকল রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার পরবর্তী সঠিক ডিস্পোজাল প্রক্রিয়া কেউ অনুসরণ করে কিনা সেটার বিষয়ে প্রশ্ন আছে। মাঝেমধ্যে অবশ্য হাসপাতাল বর্জ্য পরিবহনের ২/১টি ভ্যান বা ছোট গাড়ি চোখে পড়ে কিন্তু সেগুলো আদৌ উপযুক্ত পন্থা অবলম্বন করে এই বর্জ্য অপসারণ করে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু এগুলোর সঠিক ডিস্পোজাল করা খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তর থেকে কিছু নিয়মনীতি বেঁধে দিয়ে রাসায়নিক দ্রব্যাদির ব্যবহার পরবর্তী সময়ে সেগুলোর সঠিক ডিস্পোজাল নিয়ে ভাববার এখনই সময়। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ গবেষকদের সমন্বয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অতীব জরুরি।

এখন বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির সঠিক ডিস্পোজাল ব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলি। আমার পিএইডিকালীন দেখেছি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিগুলোর প্রতিটিতে ৩টি বড় বড় কন্টেইনার রাখা থাকত। এসব কন্টেইনারগুলোর প্রতিটির গায়ে এসিড, ক্ষার ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যাদি নামে লেবেলিং থাকত। আমরা বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট শেষে উৎপন্ন রাসায়নিক বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী এসব কন্টেইনারে রাখতাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাসে ২ বার এসকল ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির ডিস্পোজালের জন্য একটি বিশেষ টিম আসত। এই টিমের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেফটি স্থান নির্ধারিত ছিল। যেহেতু রাসায়নিক দ্রব্যাদি নাড়াচাড়া অনেকাংশে বিপদজনক, এজন্য সেফটি ব্যবস্থাটি বাধ্যতামূলক ছিল। একটি লম্বা তুলনামূলক সরু রুমের মধ্যে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, শাওয়ারের ব্যবস্থা ছিল। রুমটি অনেকটা বায়ুরোধী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটু নির্জন স্থানের দিকে ছিল। যথাযথ সেফটির সকল নিয়ম মেনে সকল ল্যাব থেকে কন্টেইনারগুলো ট্রলিতে করে ছাত্রছাত্রীরা নিয়ে আসত সেখানে। আমাদের ল্যাবের মধ্যে আমি এবং আমার এক ল্যাবমেটকে এই দায়িত্ব দেওয়া ছিল। যেদিন ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদি গ্রহণ করার টিম আসত তার আগে থেকে আমাদের গ্রুপে জানিয়ে দেয়া হতো। আমরা সময়মত ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যগুলো দিয়ে একটি ফর্মে লিপিবদ্ধ করে আসতাম। ল্যাবরেটরিতে কাজ করার পুরো সময় ১৫ দিন পরপর এই কাজটি আমরা নিয়মিতভাবে করে এসেছি। পরে জেনেছি, এই ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির সঠিক ডিস্পোজাল ব্যবস্থার জন্য মূলত একটি সংস্থা আসত। বিশেষ করে, রাসায়নিক দ্রব্যাদি থেকে যাতে দূষণ ছড়াতে না পারে সেজন্য এই ব্যবস্থা করা হয় সেখানে। সংস্থাটি পরবর্তীতে এসকল রাসায়নিক দ্রব্যাদি নিয়ে কী করত সেই বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়নি। তবে এগুলো থেকে হয়তো কিছু পুনঃ ব্যবহারের জন্য রিসাইক্লিং করা হয় নয়তো সেগুলো সঠিক নিয়মে ডিস্পোজাল করা হয়। তবে এটি যেকোন দেশের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী চিন্তা বললে ভুল হবে না। আমাদের দেশের কোথাও এই ব্যবস্থা আছে বলে আমার জানা নেই। যেটি আমাদের পরিবেশ তথা জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অতীব জরুরি। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই ব্যবস্থা চালু করার জোর দাবি রাখি।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট।
[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews