জাপানের আইচি ও নাগোয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস। এবারের আসরে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। তবে অ্যাথলেটিক্সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মাত্র দুই অ্যাথলেট। এরা হলেন- ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ইমরানুর রহমান এবং লং জাম্পে স্বপ্না খাতুন। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় দু’জনকেই ঘিরে আশাবাদী বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন।
বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর এর আগে ২০২৩ সালে চীনের হ্যাংজু এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলেন। এবার সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। চলতি মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে আসছেন এই স্প্রিন্টার। গত মাসে লন্ডনের স্ট্রেটফোর্ড স্পিড জিপি-৩ প্রতিযোগিতায় ১০.১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে মৌসুমে নিজের সেরা টাইমিং করেন। এর আগে ওয়েলস সিনিয়র ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে ১০.৩১ সেকেন্ড সময় নিয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক। মে মাসে জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপেও ১০.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে শিরোপা ধরে রাখেন ইমরানুর। সম্প্রতি কমনওয়েলথ গেমসেও ১০.৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দৌড় উপহার দেন এই স্প্রিন্টার।
অন্যদিকে লং জাম্পে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অ্যাথলেট স্বপ্না খাতুন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৬.২৫ মিটার লাফিয়ে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিজের কোচ ফৌজিয়া হুদা জুঁইয়ের ২০০৪ সালে গড়া ৬.০৬ মিটারের ২২ বছর পুরোনো জাতীয় রেকর্ড ভেঙে দেন। এই কৃতিত্বের সুবাদেই কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন স্বপ্না। যদিও গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত নিজের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক আসরে ৫.৪৩ মিটার লাফিয়ে বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাকে, তবুও তার সামর্থ্য ও সম্ভাবনার ওপর আস্থা রাখছে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপনও দুই অ্যাথলেটকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। গতকাল তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে বাছাইপর্ব থেকে স্বপ্নার মূল পর্বে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। নৌবাহিনীর কোচ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আগামী দুই মাস নিবিড় অনুশীলনের সুযোগ পেলে স্বপ্না মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারবে। আর গত আসরের মতো এবারও ১০০ মিটারে ইমরানুরই আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।’