যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস শহরে সম্প্রতি একটি ছোট প্রতিবাদী সমাবেশ বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুরে শহরের সিটি হলের সামনে উগ্র-ডানপন্থী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার জেক ল্যাং ও তার সমর্থকদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘মার্চ অ্যাগেইনস্ট মিনেসোটা ফ্রড’ নামক মিছিলে এই ঘটনা ঘটে। ঠান্ডার তীব্রতা হিমাঙ্কের নিচে (প্রায় -১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হলেও উত্তেজনা ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ল্যাংকে রক্তাক্ত অবস্থায় হোটেলের লবিতে আশ্রয় নিতে হয়।

মিছিলে জেক ল্যাং অভিযোগ করেন, মিনেসোটা রাজ্যের সামাজিক সেবা কর্মসূচিতে বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি অভিযুক্ত সোমালি সম্প্রদায়ের মানুষ। এছাড়া তিনি পবিত্র কুরআন পোড়ানো এবং সোমালি অধ্যুষিত এলাকায় মিছিল করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই হুমকির জবাবে বিরোধীরা ‘দ্য পিপলস অ্যাকশন কোঅ্যালিশন অ্যাগেইনস্ট ট্রাম্প’ নামক সংগঠনের নেতৃত্বে প্রতিবাদ শুরু করে। তারা আইসিই (ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আইন প্রয়োগকারী সংস্থা) কর্মকর্তাদের শহর থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানায় এবং স্লোগান দেয়, “আইসিই আউট অফ মিনেসোটা।” প্রতিবাদের সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং পানিভর্তি বেলুন নিক্ষেপ চলে কয়েক ঘণ্টা। বিরোধীরা ল্যাংকে লক্ষ্য করে বরফ-ঠান্ডা পানির বেলুন ছুড়ে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ল্যাং দৌড়ে নিকটস্থ একটি হোটেলের লবিতে আশ্রয় নেন। তার মাথার পিছনে রক্তের দাগ দেখা যায়, তবে আঘাত কিভাবে লেগেছে তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখযোগ্য যে, ল্যাং ইতিপূর্বে ২০২১ সালের ক্যাপিটল হিলে সংঘটিত দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পরে প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পেয়েছেন।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ৪২ বছর বয়সী মাইক অ্যান্ডারসন বলেন, “আমি আইনসম্মত অভিবাসনের বিরোধী নই, কিন্তু জালিয়াতি মেনে নেওয়া যায় না। আমার বাগদত্তা কানাডা থেকে আইনসম্মত অভিবাসী।” বিরোধীরা একদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিলেও জেক ল্যাং এবং তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গত ৭ জানুয়ারি এক অভিবাসন এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড নিহত হওয়ার পর থেকেই টুইন সিটিজ এলাকায় (মিনিয়াপলিস ও সেন্ট পল) উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফেডারেল এজেন্টরা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন হয়েছেন, যেখানে নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আবাসিক এলাকায় টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে ১৬ জানুয়ারি একজন ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর কোনো ধরনের পেপার স্প্রে বা ভিড় ছত্রভঙ্গ করার হাতিয়ার ব্যবহার করা যাবে না।

শনিবারের এই ঘটনায় মিনিয়াপলিস পুলিশ ও হেনেপিন কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিনেসোটা রাজ্যে অভিবাসন ও সামাজিক সেবা সংক্রান্ত জালিয়াতি নিয়ে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার একটি বড় প্রতিফলন এই ঘটনা। সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা ছাড়া এই উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘর্ষের কারণ হতে পারে। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews