ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবাহনী যাচ্ছে বাঘের ডেরায়! তবে মারিও লেমোসের মনে অন্য চিন্তা, ভয় তাড়িয়ে জয় নিয়ে ফেরার সুপ্ত বাসনা তাঁর।

তিন বছর আগে এই কোচ আবাহনীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন এএফসি কাপের আঞ্চলিক সেমিফাইনালে। সেটা ছিল ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় অর্জন। অথচ দল হিসেবে অমন আহামরি কিছু ছিল না ।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এই পর্তুগিজ কোচ ক্লাবের স্বপ্নের সারথি হওয়ায় দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিল আকাশি-নীলরা। এবার দলবল নিয়ে কলকাতা যাচ্ছেন এএফসি কাপ প্লে-অফ খেলতে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী এটিকে মোহনবাগান। তারা কলকাতার ফুটবল ঐতিহ্যের উঁচু বাতিঘর, যার বিপক্ষে কখনো ম্যাচ জেতার রেকর্ড নেই আবাহনীর। আজ কলকাতার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে মারিও লেমোস প্রতিপক্ষকে সমীহ করার পাশাপাশি নিজেদের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন, ‘এটিকে মোহনবাগান দুর্দান্ত দল, তাদের সর্বশেষ তিনটি ম্যাচের ভিডিও আমি দেখেছি। কঠিন ম্যাচ হবে আমাদের জন্য। তবে আবাহনীকেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। একটি ম্যাচই তো, মাঠে দলের সবাই ঠিকঠাক প্রতিক্রিয়া দেখালে জয় আসবে। ’

সর্বশেষ ২০১৭ সালে দুই দল এএফসি কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকায়। সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এবারও দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোহনবাগান খুব কঠিন প্রতিপক্ষ। মৌসুম শুরুর দিকে আবাহনীও ছিল সেরকম ভয়ংকর দল। কোস্টারিকান বিশ্বকাপার ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস আর দুই ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল আগুস্তো ও দরিয়েলতনের সম্মিলনে তাদের আক্রমণভাগ ছিল খুব ধারালো। বিশেষ করে মিডফিল্ডার রাফায়েল খেলছিলেন দেখার মতো ফুটবল। একাই খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন মাঝমাঠে, চমৎকার সব বল বানিয়ে দিচ্ছিলেন সতীর্থদের। কৃত্রিম টার্ফে টানা দুটি টুর্নামেন্ট খেলতে দুই ব্রাজিলিয়ান পড়েন ইনজুরিতে আর পুরো মৌসুমই শেষ হয়ে যায় তরুণ মিডফিল্ডার হূদয়ের। তাই স্ট্রাইকার দরিয়েলতনকে ছাড়াই আজ আবাহনী রওনা হচ্ছে কলকাতায়। যা নেই তা নিয়ে হাপিত্যেশ করতে চান না আবাহনীর কোচ। বরং যা আছে তার ওপরই নির্ভর করতে চান, ‘ফুটবল এ রকমই। পরিস্থিতি-পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই খেলতে হবে আপনাকে। আমাদের দলটি ভালো। রাফায়েল এখনো পর্যন্ত সুস্থ আছে, তার ওপরই আমাদের মাঝমাঠ নির্ভর করে অনেকখানি। এ ছাড়া যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে ড্যানিয়েল (কলিনদ্রেস)। সুতরাং ভয়ের কিছু নেই, সাহস নিয়ে লড়াই করতে হবে ম্যাচে। ’

দরিয়েলতনের জায়গা পূরণের জন্য তারা নিয়েছে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের স্ট্রাইকার নেদো তুর্কেভিচকে। তবে এই বসনিয়ানের কাছ থেকে ব্রাজিলিয়ান দরিয়েলতনের খেলা চাইলে হবে না। সেটা লেমোসও বুঝতে পারছেন, ‘বক্স স্ট্রাইকারের কোয়ালিটি আছে দরিয়েলতনের। নেদো হয়তো তার মতো হবে না, তবে সে খারাপ করছে না। কিছুদিন ট্রেনিং করে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। ’ শুধু বিদেশিদের ওপর ভর করে কখনো একটা দল ভালো ফুটবল খেলতে পারে না। ভালো খেলা ও ম্যাচ জিততে হলে শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে দেশি ফুটবলারদেরও। তিন বছর আগে দেশি-বিদেশিরা একসঙ্গে জ্বলে ওঠায় আবাহনী পৌঁছাতে পেরেছিল এএফসি কাপের আঞ্চলিক সেমিফাইনালে। দুর্দান্ত সব গোল ছিল সোহেল রানা, মামুনুল ও জীবনের। এবারও একটি দল হয়ে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন মারিও লেমোস, ‘শক্তিশালী দলের সঙ্গে লড়তে গেলে সতর্ক থাকতে হবে প্রতিটি বিভাগকে। সবাইকে অবদান রাখতে হবে ম্যাচে। নিজেদের মাঠে তারা দাপট দেখালেও আমাদেরও প্রতি-আক্রমণে সুযোগ আসবে। সুতরাং আপনার সুযোগও থাকবে। শুধু সতর্ক থেকে সদ্ব্যবহার করতে হবে। ’

মোহনবাগানের সঙ্গে এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে আবাহনীর ভাগ্য। জিতলে মূল পর্বে খেলবে। সেখানে ‘ডি’ গ্রুপে অপেক্ষা করছে বসুন্ধরা কিংস, গোকুলাম কেরালা ও মাজিয়া স্পোর্টস। চতুর্থ দল হতে আবাহনীকে খেলতে হবে সতর্ক ও সাহসী ফুটবল।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews