অক্টোবর থেকে মার্চ, ব্যবধান ছয় মাস। এরই মধ্যে মোহ কাটতে শুরু করেছে। কষা হচ্ছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিএনপির ভেতরেই নানা প্রশ্ন উঠছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করে বিএনপির কি লাভ হয়েছে, তারও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

সর্বশেষ বুধবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট এবং জামায়াত প্রশ্নে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়েছে। সেখানেই এক সদস্য দলের মহাসচিব বরাবর প্রশ্ন ছুড়ে দেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সঙ্গে নিয়ে কি পেল বিএনপি?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি। এখনই লাভ-লোকসানের হিসাব না কষে ধৈর্য ধরার কথা বলেন তিনি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্যেই লন্ডন থেকে স্বাইপেতে বৈঠকে যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

বৈঠক স্থায়ী কমিটির প্রবীণ এক সদস্য সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন বর্ণনা করতে নিজের অভিমত তুলে ধরেন, ‘তরুণ সমাজকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে পারছি না।’

ওই সূত্রের দাবি, তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ডাকসুতে ছাত্রদলের এমন বাজে অবস্থার কারণ এবং সার্বিক ফলাফল জানতে চান। তখন স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এক সদস্য এই নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

তার মতামতে তাৎক্ষণিকভাবেই আপত্তি জানান স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য। এবার তাকে সমর্থন দেন একজন। এক, দুটি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে এভাবে আলোচনা এক পর্যায়ে উত্তপ্ত রুপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম।

পরে এটি ছাড়াও ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াত ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিনিয়র নেতারা। তারা সবাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর দলের ঘুরে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দেন। কিন্তু, সে কাজটি ২০ দলীয় জোটকে আরও শক্তিশালী করে, নাকি ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে— তা নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছতে পারছেন না দলটির নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সদস্যরা।

ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াত প্রশ্নে বিএনপির শীর্ষনেতাদের মধ্যে মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। একটি অংশ জামায়াতসহ ২০ দলকে শক্তিশালী করার পক্ষে। এই অংশটি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে না থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্য অংশটি এককভাবে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তৃণমূল থেকে দলের যোগ্য ও ত্যাগীদের বিভিন্ন পদে আনার পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিএনপি এখন ত্রান্তিকাল পার করছে। এমন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেন। সেখানে দলের দুর্বলতা ছাড়াও সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়।’

তিনি বলেন, ‘মত-দ্বিমতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা সব বিষয়ে সবাই একমত হব, এমন নয়। গতকাল (বুধবার) বৈঠকের পরিবেশ একটু উত্তপ্ত হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু, দিনশেষে সবাই আগামী দিনে বিএনপি কিভাবে রাজনীতি করবে, সে বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি এই নেতা বলেন, ‘বৈঠকে জামায়াতকে নিয়েই রাজনীতি, নাকি তাদের ডিভোর্স দিতে হবে, প্রশ্ন আসে। ডিভোর্স দিলে কেন জোটে নেয়া হয়েছিল, কারা সে সময়ে পরামর্শ দিয়েছিল, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ঐক্যফ্রন্টকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি কি পেল, তাও জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু, দলের মহাসচিব সদুত্তর দিতে পারেননি।’

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট, জামায়াত ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। আরও আলোচনা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে, সবাই জানতে পারবেন।’

বুধবার স্থায়ী কমিটির ওই বৈঠক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গতবছরের ১৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের নেতাদের নিয়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এই রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

প্রবীণ আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে করা হয় জোটের প্রধান। মুখপাত্র হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দু’দফা জোটগতভাবে সংলাপ ছাড়াও নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে, নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবি হয়, মাত্র ৮টি আসনে জোটের নেতারা জয় পান।

এমএইচ/আইএম





Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews