জ্বালানি সংকটের কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতরে সড়কপথে সব বাস চলাচল করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে বাসমালিকদের মধ্যে কিছুটা সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য আপাতত অগ্রিম টিকিট বিক্রি কিছুটা সংকুচিত করেছেন তারা। ফলে কোথাও কোথাও বাসের টিকিট মিলছে না; আবার কোথাও স্বল্প পরিসরে কিছু টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে আসন্ন ঈদযাত্রায় পর্যাপ্ত গণপরিবহণ পাওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে বাসমালিক, সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে ঈদযাত্রা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তারা বলেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাম্পগুলো থেকে চাহিদার আলোকে পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে বারবার তেল নেওয়ার পাশাপাশি রিজার্ভ গাড়িগুলো দিয়েও তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন পরিবহণ মালিকরা। এমন পরিস্থিতি বুঝে পরিবহণ মালিকরা নিজ উদ্যোগ বাসের ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি সংকুচিত করেছেন। জ্বালানি সংকটের যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটা শেষ পর্যন্ত কেটে গেলে ঈদের আগে আগে বাসমালিকরা টিকিট বিক্রি করবেন। তখন যাত্রী সাধারণও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন এবং ঈদও স্বস্তিদায়ক ও আনন্দের হবে।

বাংলাদেশ পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, বাসমালিকদের টিকিট বিক্রি সংকুচিত করতে মালিক সমিতি থেকে বলা হয়নি। কিন্তু সবাই তো নিজেদেরটা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। জ্বালানি পরিস্থিতি যেমন দেখা যাচ্ছে, তাতে এই মুহূর্তে বাসমালিকদের পূর্ণমাত্রায় বাস চালানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যাপ্ত পরিবহণ চলাচল করবে।

তিনি জানান, জ্বালানি সংকট শুধু বাসের ওপর পড়বে এমন নয়। এটা স্বাভাবিক না হলে রেল, লঞ্চসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল সংকুচিত হয়ে পড়বে। কেননা, জ্বালানির উচ্চমূল্য বা জ্বালানি না পেলে তো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এ বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। আশা করা যায়, এ বিষয়ে কার্যকর সমাধান করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাস কাউন্টার ঘুরে জানা যায়, বরাদ্দ সিটের তুলনায় বাসের অগ্রিম টিকিট নিতে বিপুল পরিমাণ চাহিদা থাকায় রাজধানীর বেশির ভাগ বাস কাউন্টারে টিকিট বিক্রি কার্যত বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার অগ্রিম টিকিট বিক্রির চতুর্থ দিনে দেশের নানা প্রান্তের বিভিন্ন পরিবহণের বাস কাউন্টারে এমন চিত্র দেখা গেছে। আরও জানা যায়, বাসের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন কাউন্টারে ভিড় করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের দিনে টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। কিছু ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রি হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে কাউন্টারগুলো। তবে অনলাইনে আগাম ট্রেনের টিকিট বিক্রি স্বাভাবিক আছে। কাউন্টারে আসা যাত্রীদের অভিযোগ, কিছু কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনেও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের একজন রাশেদুল হাসান। পটুয়াখালী যেতে ঈদের অগ্রিম টিকিটের জন্য যান শ্যামলী পরিবহণে। প্রথমে দায়িত্বপ্রাপ্তরা টিকিট নেই বলে জানান। পরে ১০০ টাকা বেশিতে টিকিট দিয়েছেন। সেটিও অন্যের নামে কাটা। অভিযোগ জানাতে মালিকপক্ষের নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিলেও তাদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেননি তারা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন গিয়েছিলেন বরিশালের বাসের টিকিট কাটতে। বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে তিনি টিকিট পাননি। বাস কাউন্টারের কর্মকর্তারা জানান, তেল সংকটের কারণে পর্যাপ্ত বাস ছাড়া সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এজন্য আপাতত বাসের টিকিট দিচ্ছেন না তারা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করবেন বলে তারা জানিয়েছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews