কেন এমন হয়

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘পাওয়ার ইজ দ্য আলটিমেট অ্যাফ্রোডিজিঅ্যাক’। এর সহজ বাংলা হচ্ছে, ‘ক্ষমতাই হলো শ্রেষ্ঠ কামোদ্দীপক’। এই যে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের নিয়ে এভাবে ভাবেন, এটাই ক্ষমতার সবচেয়ে বড় সমস্যা।

ওয়েলস ফার্গো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ব্যাংক। ব্যাংকটিতে একবার ভয়াবহ জালিয়াতি হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ওয়েলস ফার্গো গ্রাহককে না জানিয়েই তাঁদের নামে প্রায় ২০ লাখ ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রেডিট কার্ড খুলেছিল। গ্রাহকেরা জানতেনই না যে তাঁদের নামে বাড়তি অ্যাকাউন্ট আছে, অথচ তাঁরা ঠিকই ওই সব অ্যাকাউন্টের ফি বা চার্জ দিচ্ছিলেন।

তখন ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন জন স্ট্যাম্প। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেস শুনানিতে জবাবদিহির জন্য তাঁকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে তাঁর বিস্ময়কর আচরণ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়। কেননা, তাঁর আচরণের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি বা নিজেদের কৃতকর্মের কোনো অনুশোচনাই ছিল না। তিনি শান্তভাবেই বসে ছিলেন। গবেষকদের মতে, এটি আসলে জন স্ট্যাম্পের কোনো অভিনয় ছিল না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে অতিমাত্রায় ক্ষমতার শীর্ষে থাকার ফলে তাঁর মস্তিষ্কের অন্যের অনুভূতি বোঝার অংশটি, যাকে বলা হয় ‘মিররিং প্রসেস’, যেটি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি একটি বড় অভিযোগ হচ্ছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যে এক হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হলো, এর কোনো অনুশোচনা তাঁদের মধ্যে নেই। এবার বোঝা গেল কেন নেই।

এর অর্থ সমস্যা আসলে ক্ষমতাবানদের মস্তিষ্কেই। সুখবিন্দর এস ওভির নেতৃত্বে তিন স্নায়ুবিজ্ঞানী ‘পাওয়ার চেঞ্জেস হাউ দ্য ব্রেন রেসপন্ডস টু আদারস’ নামে একটি গবেষণা করেছিলেন ২০১৩ সালে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল মস্তিষ্কের স্তরে ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে তা দেখা। গবেষণায় ‘মোটর রেজোন্যান্স’ নামক একটি প্রক্রিয়ার ওপর ক্ষমতার প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। মোটর রেজোন্যান্স হচ্ছে এমন একটি বিষয়, যেখানে আমরা যখন কাউকে কোনো কাজ করতে দেখি, আমাদের মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে, আমরা নিজে সেই কাজটি তখন একইভাবে করি। দেখা গেছে, ক্ষমতাবানদের ক্ষেত্রে এটি কাজ করে না।

গবেষণা অনুযায়ী, যাঁরা নিজেদের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মনে করেছিলেন, অন্যের কাজের প্রতি মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া ছিল সবচেয়ে কম। আর ক্ষমতাহীনদের ছিল সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ ক্ষমতা যত বেশি, অন্যের কাজের প্রতি মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া বা সহমর্মিতা তত কম।

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডাচের কেল্টনার দীর্ঘ ২০ বছরের গবেষণার ভিত্তিতে দেখিয়েছেন যে মানুষ যখন ক্ষমতায় বসে, তখন তার মস্তিষ্কে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে, যা তাকে অন্যের প্রতি কম সহানুভূতিশীল করে তোলে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে মানুষ যে সহানুভূতি, পরোপকার এবং সামাজিক দক্ষতার মাধ্যমে অন্যদের মন জয় করে; ক্ষমতায় আসার পর ঠিক সেই গুণগুলোই সে হারিয়ে ফেলে। এ নিয়ে ২০১৬ সালে প্রকাশিত তাঁর বইয়ের নাম দ্য পাওয়ার প্যারাডক্স: হাউ উই গেইন অ্যান্ড লুজ ইনফ্লুয়েন্স।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews