স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ





০৯:২১ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার











সম্প্রতি চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন নেতা ও ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত দলের বিতর্কিতদের মাইনাস করে ক্লিন ইমেজ ধরে রাখার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এ শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

এর ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ব্যবসায়ী সহ বিতর্কিত কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের দুজন ছিল। শুদ্ধি অভিযানের এই অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের কে পরবর্তী টার্গেটে পড়তে যাচ্ছে এ নিয়ে একদিকে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক; অন্যদিকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারা যেখানে ছাড় পাচ্ছেনা সেখানে জেলা পর্যায়ের বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবে কে হতে যাচ্ছে পরবর্তী টার্গেট সেটাই এখন দেখার বিষয়। এ নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিক অঙ্গন।

জানা গেছে, হঠাৎ করেই আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেশ কঠোর বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের পর থেকেই পাল্টে যায় প্রেক্ষাপট। শুরু হয় শুদ্ধি অভিযানের দৃশ্য। একে একে ধরা পড়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের দুই নেতা ও ব্যবসায়ীও রয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান থেকে নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ইউনিট। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জানা গেছে। সেলিম প্রধান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েমের চাচাতো ভাই।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমকে রাজধানীর নিকেতনে তার কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। যিনি নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় নিয়ে আসতেন। তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর, সর্টগান, মাদক, বিদেশি অর্থ জব্ধ করা হয়। জি কে শামীমের অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

১৯ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলের ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দফায় দফায় বিভিন্ন ক্যাসিনো ও ক্রীড়া ক্লাবে অভিযান চালিয়ে আরো প্রায় অর্ধ ডজনকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯ সেপ্টেম্বর রাতে গণভবনে ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে-ছাত্রলীগকে সততা, আদর্শ নিয়ে সংযমের সঙ্গে চলার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি কোনো নালিশ শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি। একে একে সব ধরব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের অসঙ্গতি এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। আমি করব। জানি এগুলো কঠিন কাজ। কিন্তু করব। এই কাজ করতে গিয়ে অনেক বাধা আসবে। তারপরও আমি করবই।

৩০ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ থেকে দূষিত রক্ত বের করে দিন। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করুন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি স্থান থেকে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা শুদ্ধি অভিযানের পক্ষে জোড়ালো বক্তব্য রেখে আসছে। এতে করে সব মিলিয়ে শুদ্ধি অভিযানের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। যদিও নারায়ণগঞ্জের দুজন গ্রেফতার হয়েছে জেলার বাইরে থেকে।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জের এমপি, মন্ত্রী সহ প্রভাবশালী নেতারা অনেক আগে থেকেই রাজধানীতে বসবাস করে আসছে। সেক্ষেত্রে বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান জেলার বাইরে পরিচালনা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তবে শুদ্ধি অভিযান যেখানেই পরিচালনা হোকনা কেন বিতর্কিতরা ধরা পড়েছে এটাই মূখ্যম বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ডজন ডজন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনেক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণও রয়েছে। এতে করে যেকারণে সময় সেসব বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালানো হতে পারে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের ২৬ নেতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তাদের আয়, উপার্যনের খাত, ইনকাম ট্যাক্স প্রদান, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগের সম্পদ ও পরের সম্পদ, কার নিয়ন্ত্রণে কোন কোন সেক্টর, বাহিনীতে কারা কারা আছেন, কে কোন এলাকা নিয়ন্ত্রন করেন এর যাবতীয় তথ্যাবলী সংগ্রহ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের পদ বহন করছে এমন নেতাদের ব্যাপারেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews