মিয়ানমারের গণহত্যার সন্দেহ নিয়ে তদন্ত করতে আসা জাতিসংঘের একটি দল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যমটি “পশুতে পরিণত হয়েছে” বলে মন্তব্য করেছে।

২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে ‘বিদ্রোহীদের’ বিরুদ্ধে অভিযানে নামে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এরপর মিয়ানমার থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়, এমনটাই বলা হয়েছে বিবিসি’র প্রতিবেদনে।

সোমবার জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন মিয়ানমার তাদের তদন্তের মধ্যবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মিশন-এর চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসম্যান বলেন, এই সামাজিক মাধ্যমটি রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিস্তৃত পরিসরের জনগণের মধ্যে “রুক্ষতার মাত্রায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।” 

“এর মধ্যে অবশ্যই ঘৃণামূলক বিবৃতি স্পষ্ট একটি অংশ ছিল।”

“মিয়ানমার পরিস্থিতি যতোটা সম্ভব উদ্বেগজনক, সামাজিক মাধ্যম হচ্ছে ফেইসবুক আর ফেইসবুকই সামাজিক মাধ্যম।”

এর আগে দেশটিতে ঘৃণামূলক বিবৃতি ঠেকাতে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছিল ফেইসবুক।

ফেইসবুক বলেছে, তাদের প্লাটফর্মে ‘ঘৃণামূলক বিবৃতির কোনো স্থান নেই।” প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বিবিসি’কে বলেন, “আমরা এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেই আর  নিরাপত্তা ও পাল্টাবিবৃতিমূলক প্রচারণা নিয়ে মিয়ানমারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে কাজ করছি।”

“এই কাজের মধ্যে আলাদাভাবে একটি সেইফটি পেইজ ফর মিয়ানমার খোলা, স্থানীয় বিষয়গুলো ভেবে আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড-এর একটি বিশেষায়িত রূপ বানানো আর নাগরিক সমাজ ও দেশটি জুড়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের দলগুলোর নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চালানো অন্তর্ভূক্ত।”

“অবশ্যই সবসময়ই আমরা আরও বেশি কিছু করতে পারি আর আমাদের সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে সহায়তার জন্য আমরা স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।”

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি স্বীকার করেছেন, ফেইসবুকের এই সেবা দেশটির মানুষকে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সহায়তা করে। তিনি বলেন, “আমরা জানি অতি-জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধদের নিজস্ব ফেইসবুক রয়েছে আর তারা সত্যিই এতে রোহিঙ্গা বা অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগুলোর বিরুদ্ধে প্রচুর সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে। আমি ভীত যে ফেইসবুক এখন পশুতে পরিণত হয়েছে আর তারা আসলে যে উদ্দেশ্য নিয়েছিল তা নেই।”

বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া আর থাইল্যান্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘন হওয়া ছয় শতাধিক নির্যাতিত আর প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন বানানো হয়েছে।

এর সঙ্গে স্যাটেলাইট থেকে সংগ্রহীত মিয়ানমারের ছবি আর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণা করেছে দলটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “মানুষ নির্বিচার গুলিতে আর গুলির জখম নিয়ে মারা গিয়েছে। কাউকে তাদের বাড়িতেই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে-- অনেক সময় তাদের মধ্যে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী আর শিশুরাও ছিল। অনেককে কুপিয়ে মারা হয়েছে।”

এর আগে মিয়ানমার সরকার বলে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করা অভিযোগ আনতে জাতিসংঘ-কে ‘স্পষ্ট প্রমাণ’ দেখাতে হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews