ভালোবাসা দিবস আর পহেলা ফাল্গুন সামনেই। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই উৎসবের আগমনী বার্তা তাই প্রকৃতিজুড়ে। বসন্তকে বরণ করে নিতে যেমন চাই রঙিন ফুল, তেমনি ভালোবাসার দিনে একটি লাল গোলাপ প্রিয়জনের হাতে তুলে দেওয়াও তো চাই! উৎসবের এই মাসে তাই ফুল ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে।

বসন্তের প্রথম দিন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস (ভ্যালেন্টাইন্স ডে) ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে নগরবাসীর ফুলের চাহিদা পূরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে ফুল দোকানীরা। 

রবিবার রাজধানীর শাহবাগ ফুল মার্কেট,আগারগাঁও ফুল মার্কেট, ধানমন্ডি এবং ফার্মগেটের খুচরা দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। 

খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফুল বিক্রি পরিমাণে বেশি হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা থাকায় ভালোবাসা দিবসে ফুল বিক্রির পরিমাণ নিয়ে শঙ্কিত তারা।


আগারগাঁও মার্কেটের নিউ অপরাজিতা দোকানের ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এবছর রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। তাই ফুল বিক্রির বিষয়ে আমরা বিশেষ আশাবাদী। তবে ১৪ তারিখ পরীক্ষা থাকায় আমরা একটু চিন্তিত।’

ফুলের চাহিদা সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহবাগের আনিন্দ্য পুষ্পনির শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস মানেই গোলাপ। সবাই চায়না রেড গোলাপ বেশি পছন্দ করে। এছাড়াও দেশি লাল ও সাদা গোলাপের চাহিদাও আছে।’

কথা হলো বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে ফুল কিনতে আসা ঢাবি শিক্ষার্থী অর্পিতা রায়ের সঙ্গে। জানালেন মাথায় পরার জন্য এবার নিজেই ফুল কিনে বানিয়ে নেবেন রিং। তবে ফুলের দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট ক্রেতাগণ। ক্রেতাদের অভিযোগ বিশেষ দিবসতো বটেই, পুরো ফাল্গুন মাস জুড়েই বেশি থাকে ফুলের দাম।

উত্তরা থেকে ফুল কিনতে আসা সাদিক আহমেদ বলেন, ‘সাধারণত গোলাপের দাম থাকে ৫ টাকা। এখনই গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা দরে। গতবার ভালোবাসা দিবসে গোলাপ কিনেছিলাম ১০০ টাকা দিয়ে।’

এবিষয়ে শাহবাগ ফুল বিক্রেতা সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান বলেন, ‘এখন ফুল তোলার সময়। চাষীরা অধিক মূল্যে  ফুল ছাড়ছে। তাই আমাদেরও সুযোগ নেই দাম কমানোর। সরকার যদি চাষীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে, ঋণের ব্যবস্থা করে তাহলেই ফুলের দাম কমবে।’


পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে ফুলের দাম কেমন থাকতে পারে জানতে চাইলে শাহবাগ ফ্রেশ ফ্লাওয়ার হাউজের আবু জাফর বলেন, ‘প্রতিটি দেশি গোলাপের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা, জারবেরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গ্লাডিওলাস ২০ টাকা ও রজনীগন্ধা ১০-১৫ টাকা,  জুঁই-বেলী মালা ৫০ টাকা, গাঁদা ফুলের মালা ৬০-৭০ টাকা, লিলি ২০০ টাকা, থাই-চায়না ও ইন্ডিয়ান গোলাপ ৮০ থেকে ১০০ টাকা,  অর্কিড ৮০ টাকা, কিসিমসিমা মিম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, জারবেরা ৪০ টাকা, গ্লাডিয়াস ৪০ টাকা, ক্যালনডুলা ২০ টাকা, জিপসি ৫০ টাকা পর্যন্ত থাকবে।

এসব ফুলের সিংহভাগই আসে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী থেকে। দেশে ফুলের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ ভাগ গদখালী থেকে সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও দেশের বাইরে চায়না, ভারত, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে ফুল আমদানি করা হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুলার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব শেখ মেরিন বলেন, ‘পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ৬০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এত ফুল দেশে উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews